কাতারভিত্তিক আল জাজিরার জানিয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ দুর্গ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুনর্গঠন শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, তেহরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও মিসাইল সক্ষমতা পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় সামরিক অভিযানে নামে, তখন মধ্যপ্রাচ্যে মোটা আকারের প্রতিশোধ গেঁথে দিতে পারার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতি চলছে। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে পরিস্থিতি আলোচনা করেছেন এবং যুদ্ধের নতুন ধাপ সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজ সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী ‘মুক্ত করা’ এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নস্যাৎ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো নিয়ে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেছেন। এতে ট্রাম্পের মে মাসের মাঝামাঝি পরিকল্পিত চীন সফরও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বেইজিং ও তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ১৬ এপ্রিল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আপনারা যা করছেন আমরা সবই জানি। ধ্বংসস্তূপ থেকে আপনারা অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আর লঞ্চারগুলো খুঁড়ে বের করছেন, কিন্তু এগুলো প্রতিস্থাপনের কোনো ক্ষমতা আপনাদের নেই। আপনারা যখন গর্ত খুঁড়ছেন, আমরা তখন আরও শক্তিশালী হচ্ছি।”
অপরদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, উৎপাদন কেন্দ্রগুলো নষ্ট করেছে এবং তাদের নৌবাহিনীকে কার্যত পানির তলায় নামিয়ে দিয়েছে। তবে এনবিসি নিউজের উদ্ধৃত গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ইরান তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। ফলে ইরানের বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি অংশ এবং বিপ্লবী গার্ডের নৌসামগ্রীর একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত ও কার্যকর রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি রয়েছে, কিন্তু ওই বিরতির পরে দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখনও কোনো চূড়ান্ত ফল নেয়নি। গোলমালের মধ্যে এই পুনর্গঠন ও গোয়েন্দা বিবাদ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।








