ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কিছু দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে: আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংস্কার ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ বলেন, ‘‘ভোট দিতে সবাই সক্ষম হবেন। আমাদের এমন কোনো উদ্যোগ নেই যা নেওয়া হচ্ছে না। ভোটাধিকারের ব্যাপারে কথা বলছি। ক্লাসে পড়ানোর সময় আমি ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞেস করতাম, তোমরা কেউ ভোট দিয়েছো? প্রায় সবাই হাসাহাসি করত, কেউ কেউ বলত স্যার, দশ বারো বার ভোট দিয়েছি, কিন্তু ৯০ শতাংশের বেশি বলত তারা ভোট দেয়নি। তবে আশা করি, এবার সেই দুঃখ কেটে যাবে। আমরা তো প্রায় ১৮ বছর ভোট দিতে পারিনি।’’

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় নিয়ে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। শিগগিরই ঘোষণা শুনতে পাবেন।’’

২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘সাধারণত ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দেয় না। কিন্তু আমি বলব, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেক ভয়াবহ তথ্য সামনে আসবে যা সাংবাদিকদের কাজে লাগবে।’’

তিনি আরো জানান, নির্বাচনী কার্যক্রম মূলত নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবে কিন্তু তাঁর সরকারের সৎ নীতির প্রতি দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন। ‘‘আমাদের সৎ উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা নির্বাচন আয়োজনের।’’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩ সংশোধন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ প্রণয়ন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যুগোপযোগী সংস্কার। সাইবার সুরক্ষা আইন এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালাও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫’’ প্রণয়ণ করা হয়েছে এবং তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ নীতিমালা তৈরি হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্পত্তির হিসাব গ্রহণ এবং পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী এবং জনতাদের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত ও প্রসিকিউশন মনিটরিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

বিচার কার্যক্রম ডিজিটালাইজेशन নিয়ে বললেন, ‘‘আইন মন্ত্রণালয়ের অ্যাটেস্টেশন সেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে রূপান্তরিত হয়েছে। জামিনপ্রাপ্তির সুবিধার্থে অনলাইনে বেইলবন্ড জমা দেওয়ার সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, খুব শিগগিরই ব্যবহার শুরু হবে।’’

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে জানান, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ কমিটি এবং আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক পর্যালোচনার পর প্রায় ১৫ হাজার মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার আইনের অধীনে প্রায় ৪০০ এবং গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ৭৫২টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফলে বহু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের এক বছরে আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম গতিশীল হয়েছিলো; মন্ত্রী পর্যায়ে নিষ্পত্তিকৃত নথির সংখ্যা ১২৮৩, যা আগের সরকারের তুলনায় অনেক বেশি। আইনি মতামত প্রদান ও নথি সত্যায়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে।

এছাড়া নতুন দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশন, গুম তদন্ত কমিশন ও জাতীয় ঐক্য ধর্মঘট কমিশনের সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়। প্রথমবারের মতো দেশের বিধিমালা ও প্রবিধান কোডিফাই করার কাজ শুরু হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে প্রায় ৪৮৮৯ জন সরকারি আইন কর্মকর্তা এবং ২৭৪ জন অ্যাটর্নি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে প্রয়োজনীয় বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ও আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের নিয়োগে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এই সকল উদ্যোগ দেশের আইনি ও বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন গতি এবং বিশ্বাসের সূচনা করেছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।