তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত তালিকায় কিছু বিভাগে অসংগতির অভিযোগ উঠায় বিজয়ীদের পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই অনৈক্যতা সংশোধন করে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে মোট ২৮টি বিভাগে ৩২ জন শিল্পী ও কুশলীকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
সংশোধিত তালিকায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আজীবন সম্মাননা বিভাগে। প্রথম ঘোষণায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চুর নাম আজীবন সম্মাননার জন্য প্রস্তাব করা হলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অনুযায়ী এই সম্মাননা মূলত জীবিত ব্যক্তিদের দেওয়া হয়—এই বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টির পরে মন্ত্রণালয় পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে তারেক মাসুদ ও আবদুল লতিফ বাচ্চুকে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূর্ণিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি হিসেবে এবার সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী ঝর্ণা বসাক (শবনম) ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক।
চিত্রনাট্য বিভাগেও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এসেছে। প্রথম প্রজ্ঞাপনে ‘রক্তজবা’ ছবির জন্য পরিচালক নিয়ামুল মুক্তাকে সেরা চিত্রনাট্যকার ঘোষণা করা হয়েছিল; তবে তিনি পরে জানাচ্ছেন যে তিনি ছবির চিত্রনাট্য লেখেননি। মন্ত্রণালয়ের পুনর্মূল্যায়নের পর প্রকৃত চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসানকে সেই বিভাগে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বড় পুরস্কারগুলোতেও চূড়ান্ত তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে — ২০২৩ বছরের সেরা চলচ্চিত্রের খেতাব পেয়েছে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’, এবং একই সিনেমার জন্য খন্দকার সুমন সেরা পরিচালক হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। অভিনয় বিভাগে গত বছরের আলোচিত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’ থেকে আফরান নিশো সেরা অভিনেতা হওয়ায় মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে ‘সাঁতাও’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন আইনুন নাহার পুতুল।
অন্যান্য অভিনয় পুরস্কারেও পরিবর্তন নেই উল্লেখযোগ্য: খল চরিত্রে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’-এর জন্য আশীষ খন্দকার, কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ‘সুড়ঙ্গ’ ছবির জন্য শহীদুজ্জামান সেলিম পুরস্কার পাচ্ছেন। পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে মনির আহাম্মেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ) ও পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে নাজিয়া হক অর্ষা (ওরা সাত জন) নির্বাচিত হয়েছেন। শিশুশিল্পী বিভাগে ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ সিনেমার জন্য মো. লিয়ন ও আরিফ হাসান যৌথভাবে পুরস্কার অর্জন করেছেন।
সংগীত বিভাগেও সুপরিচিত কয়েকজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে: ‘সুরকার’ হিসেবে প্রিন্স মাহমুদ, ‘সংগীত পরিচালক’ হিসেবে ইমন চৌধুরী, সেরা গায়ক হিসেবে বালাম এবং সেরা গায়িকা হিসেবে অবন্তী দেব সিথি সম্মানিত হয়েছেন। গীতিকার হিসেবে সোমেশ্বর অলির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের এই সংশোধিত তালিকা শিল্পের মর্যাদা রক্ষায় এবং প্রকৃত মেধাবীদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। খুব শিগগিরই একটি জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।







