ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জুনে রপ্তানি আয় ২৫.৯১% বাড়লো, পোশাক ও কৃষিপণ্য নেতৃস্থানীয় হয়ে ফিরিয়েছে চাঙ্গাভাব

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বাড়তি দেখা গেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও জুনে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৯১ শতাংশ বেড়েছে। তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এ উন্নয়নের প্রধান চালক হিসেবে কাজ করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশ করা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ৪২০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই মাসে আয় ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এক বছরে আয় বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।

রপ্তানির মূল চাবিকাঠি হিসেবে আবারও এগিয়ে এসেছে তৈরি পোশাক খাত। জুনে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.৫২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে আসে ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার এবং ওভেন (বোনা নয় এমন) পোশাক থেকে আসে ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

পোশাকের পাশাপাশি হোম টেক্সটাইল খাতেও শক্তিশালী বৃদ্ধির ছোঁয়া দেখা গেছে — এ খাতের রপ্তানি আয় প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও শক্তিশালী উঠানামে রয়েছে; এই খাতে আয় ৪৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

কৃষিপণ্যে এসেছে সবচেয়ে 눈에 পড়ার মতো অগ্রগতি। তাজা সবজি, ফল, মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় কৃষি রপ্তানি ৪৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুণগত মানের উন্নতি, সংগ্রহ-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার সহজতা এবং নতুন বাজার পরিক্রমাই এ বৃদ্ধির পেছনের কারণ।

তবে সামগ্রিক অর্থবছরের চিত্রটা পুরোপুরি উজ্জ্বল নয়। ইপিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম। বছরের প্রথম দিকগুলোতে বৈশ্বিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক চাহিদা হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার কারণে রপ্তানি প্রত্যাশিতভাবে পিছিয়ে পড়ে।

এই অর্থবছরে মোট ২৭ প্রকার পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ; এর মধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও হোম টেক্সটাইল উল্লেখযোগ্য। রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে নতুন ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিকল্প বাজারে অভিসরণ—এসব মিলেই জুনের এই ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।

রপ্তানিকারকরা আশাবাদী যে এই ধারা বজায় থাকলে পরবর্তী অর্থবছরে রপ্তানি আয় আরও শক্তিশালী হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, টেকসই উন্নয়নের জন্য গুণগত মান বজায় রাখা, সরবরাহঘাটতি দূর করা ও নতুন বাজারে প্রবেশ আরও জোরদার করতে হবে।