তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বার্থে দেশীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে বিবেচনা করে কোনো শত্রু তৈরি না করে সর্বত্র সাহসী ও সুবিচারপূর্ণ মিত্রতা গড়ে তুলেছিলেন। वर्तमान প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চলমান সরকারের মূল পররাষ্ট্রনীতিই হলো শহীদ জিয়াউর রহমানের সার্কের নীতি ও বহুপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে চলা। তিনি বলছেন, এই নীতিই বর্তমান সময়ে দেশের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজনিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তারা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকার চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন মূল উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। তারা বলেন, আমদানির ক্ষেত্রে চীন ও ভারত, রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে মার্কিন ও ইউরোপ, রেমিট্যান্সের উৎস মধ্যপ্রাচ্য, এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য কাতার ও রাশিয়ার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের মতো প্রকল্পগুলো আমাদের দেশের স্বাভাবিক অংশ।
তথ্যমন্ত্রী আরো জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের আগে একদলীয় শাসন ও কূটনৈতিক ধীরগতি থেকে বেরিয়ে এসে বহুদলীয় ব্যবস্থা, পশ্চিমমুখী অর্থনীতি ও মানবিক বৈশ্বিক সংস্থা ও মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি ভারতসহ সার্ক গঠন করে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবেলায় এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বকীয়তাকে চেনা ও রক্ষা করার গুরুত্ব অপরিহার্য। তিনি বলেন, আমরা যেন আমাদের জাতীয় পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে জানি। ভারতীয় বা অন্য দেশের বুদ্ধিজীবীদের কাছে যাওয়ার দরকার নেই, আমাদের মুসলমানিত্ব বা জাতীয়তা প্রমাণের জন্য অন্যের স্বীকৃতি প্রয়োজন হয় না। এই চেতনা শহীদ জিয়াই আমাদের মধ্যে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি শহীদ জিয়াকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন। এমনকি তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মান্যতা ও সম্মান জ্ঞাপন করেন, যা স্বয়ং ভারতের রাষ্ট্রপতিও স্বীকার করেছিলেন। তবে বর্তমান কিছু দল এ স্বীকৃতি অস্বীকার করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, যা দেশের ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
তথ্যমন্ত্রীটি উল্লেখ করেন, আমাদের দেশের রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে, দেশের নিজস্ব জ্বালানি উত্তোলনে এগিয়ে আসতে হবে, এবং প্রয়োজন হলে আমাদের নিজস্ব শর্তে ভারত, নেপাল ও ভুটানের থেকে হাইড্রো পাওয়ার নিতে হবে। তিনি বলছেন, এই বৈচিত্র্যময় ও বিপরীতমুখী বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে টেকসই সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে, আমাদের শক্তিশালী নীতির প্রয়োজন, যা প্রথম ও শেষ অপরিহার্য।
আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ পড়েন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের ড. মুশতাক খান। অনুষ্ঠানে অংশ নেন আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বকীয়তা বিষয়ে আলোচনা করেন।








