ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দিল্লিতে মোদির বাসভবন ঘিরে বিক্ষোভ, রাহুল–প্রিয়াঙ্কা আটক পরে রিহাই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতাদের সঙ্গে তরুণ ও কৃষক— তিনটি ভিন্ন সূত্রের আন্দোলন একসঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থল দখল করার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।

লোকসভা বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি দল দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন—লোক কল্যাণ মার্গের সামনে অবস্থান নেয়। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং দলের অন্যান্য শীর্ষনেতারা বিকেলে সেখানে পৌঁছে সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং মোদি-শাহের পদত্যাগের স্লোগান দেন। ঘটনার তীব্রতা বাড়লে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়; তিনি রাহুলের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ কংগ্রেস নেতাদের কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানায়।

সংযুক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সন্ধ্যায় (সাড়ে ছয়টার দিকে) দিল্লি পুলিশ কংগ্রেস নেতাদের আটক করতে শুরু করে। প্রথম দফায় আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে; পরে এমপি সুখজিন্দর সিং ও সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও আটক হন। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয় এবং পরে গত রাতেই তারা ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ রাহুলকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তাঁর নাক থেকে রক্ত বেরিয়ে আসার ছবিও দেখা গেছে—পুলিশের টানাহেঁচড়া নেওয়ার যে দৃশ্য তা আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ছিল শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) চালানো আন্দোলন। সিজেপি বলেছে, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় ছাত্রদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বাদ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। সিজেপি মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপ আন্দোলনকারীদের মনোবল ধরে রাখার আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে শত শত মানুষ আহত হয়েছেন; পুলিশ dagegen বলে কিছু অংশ সহিংস আচরণ করেছে।

এদিকে কৃষক আন্দোলনও একসাথে শামিল ছিল। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আয়োজিত কিষাণ মহাপঞ্চায়তে যোগ দিতে পাঞ্জাব থেকে আগত শত শত কৃষক শম্ভু সীমান্তে হরিয়ানা পুলিশে আটকে পড়েন। সীমান্তে পুলিশী ব্যারিকেড ও বাধা দিয়ে তাদের দিল্লি প্রবেশ রোধ করা হলে কৃষকরা সেখানেই অবস্থান বেছে নেন। এসব ব্যারিকেড ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে—কংক্রিট ব্লক, কাঁটাতার ও বহুস্তরীয় প্রতিরোধ বসানো হয়।

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (বিকেইউ)-এর শহীদ ভগত সিং শাখার নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন যে হরিয়ানা পুলিশ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যা কিছু জায়গায় পাঞ্জাবের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে, এবং পাঞ্জাব সরকার এই বিষয়ে ‘নীরব দর্শক’ রয়ে গেছে। শম্ভুতে আটকে গেলেও হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ আশপাশের জেলা থেকে এখনও কয়েক দফা কৃষক দিল্লি অভিমুখে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের কৃষক সংগঠনের অংশগ্রহণে ‘দেশ বাঁচাও’ মোর্চার ব্যানারে কিষাণ মহাপঞ্চায়েট আয়োজন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মঞ্চে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলো লোকসভায় বিষয়টি আলোচনার দাবি করেছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলার কারণে তাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে; যদি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সংসদে আলোচনা করা না হয়, তাহলে সংসদের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

ক্ষত-বিক্ষত আন্দোলন, আটক-নির্বিচ্ছিন্নতা ও কৃষক-ছাত্র আন্দোলনের মিলিত তাপে দিল্লির রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়ছে। গতএই দিনের ঘটনায় পুলিশ-শক্তি ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে টানাপোড়েন থাকা সত্বেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং আটক নেতারা রাতেই মুক্তি পেলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংলাপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।