ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ

টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে

নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি

উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব।

এতে তলিয়ে গেছে উত্তরের পাঁচ জেলা— রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও

নীলফামারীর বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি বাড়ায় এসব জেলার নিচু ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে এবং

নিম্নাঞ্চলের শাকসবজি, রোপা আমনসহ বীজতলা তলিয়ে গেছে। এ সব জেলার প্রায় ৪০ হাজার

মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ

প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে

প্রবাহিত হয় এবং বেলা ৩টায় তা বেড়ে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়

লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ডুবে গেছে বসতবাড়ি, গবাদিপশুর চারণভূমি, ফলে পশুখাদ্যের সংকট

দেখা দিয়েছে। এতে ৫ জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী,

গজঘন্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়ন, কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া, টেপামধুপুর ইউনিয়ন এবং

পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচর,

লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ৩৩টি গ্রাম, কুড়িগ্রামের ২৭টি গ্রাম ও নীলফামারীর ১৪

গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি মানুষ ইতিমধ্যে উঁচু স্থানে আশ্রয়

নিয়েছেন।

তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “গতকাল সকাল থেকেই নদীর

পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, ফলে চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে এবং মানুষ

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। আমাদের জীবনযাপন এখন খুবই কঠিন

হয়ে পড়েছে।”

পড়ুন: চাঁপাইয়ে পদ্মার পানি বেড়ে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি সাড়ে ৮ হাজার

পরিবার

এদিকে, গঙ্গাচড়া মহিপুরে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত সড়ক সেতুর পশ্চিম তীরে সেতু রক্ষা

বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার এলাকা ধসে পড়েছে। এতে বাঁধে প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি

হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবল স্রোতে ভাঙনের ঝুঁকিতে

পড়েছে লালমনিরহাট–রংপুর সড়কসহ পার্শ্ববর্তী হাজারের বেশি পরিবারের বসতবাড়ি।

ভাঙনঝুঁকিতে থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো বাঁধ ভেঙে গিয়ে সেতু ও

যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, “আগের দুইবার

বন্যায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা পদক্ষেপ

নেয়নি। এবারও প্রবল স্রোত বাঁধে আঘাত হানছে, উজানে আরও বৃষ্টি হলে বাঁধ ভেঙে যেতে

পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে পানি সরাসরি লালমনিরহাট–রংপুর সড়কে আঘাত করবে, এতে কয়েক লাখ

মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। পাশাপাশি তিনটি গ্রামের অন্তত দেড় হাজার পরিবার

সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে।”

রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন,

বন্যায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত

পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে

বলেও জানান এই দুই জেলা প্রশাসক।