ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ধারাবাহিক ভারি বর্ষণের কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে জলপরিমাণ দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। মাওসিনারাম গ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাধারণত ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ছয় মাসের একসাথে শুষ্ক কালের বৃষ্টিপাতের সমান। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে বাংলাদেশে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। সাথে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জামালপুরে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের ফলে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে দেশের অন্যান্য অংশের মতোই, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ছে, ফলে বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘালয়ের উজানে এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির স্তর দ্রুত বাড়তে পারে, যা ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, মেঘালয়ের মাওসিনরামে এক রাতে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা ভারতের অন্যান্য শুষ্ক অঞ্চলগুলোর ছয় মাসের তুলনায় বেশি। বিভিন্ন এলাকা যেমন, আরকেএম সোহরা ৪৭০ মিলিমিটার ও মাওকিরওয়াট ৩৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া শেল্লা, উইলিয়ামনগর, মাওরিংকনেং, জোয়াই ও রাতাচেরা এলাকাগুলোয় ৭০-৯০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই ভারি বর্ষণের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও শুরু হয়েছে। শিলং থেকে ডাউকি পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ ভেঙে গেছে, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ঘটনা কোনো হতাহতের খবর না মিললেও, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি ও যোগাযোগের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করেছে, কারণ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারি বর্ষণের প্রভাবে নদীগুলোর পানি বেড়ে চলেছে, আর এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম, সিলেট ও নীলফামারীর নদীগুলোর বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রकোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় নানা স্তরের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীকুলের আশপাশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। জেলার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে, ফলে নদীর তীরবর্তী স্থানগুলোতেই নদীভাঙনের ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি আর নিম্নাঞ্চলের পানির স্তর ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক ও গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। একইভাবে, সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কাও বাড়ছে, যেখানে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ভারি বর্ষণের প্রকোপে তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানিও বাড়ছে, যা বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। বর্ষাকালীন এই অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উপকূলে ব্যাপক বন্যা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন সংস্থা সকল সময় নজরদারিতে রয়েছে, যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।








