জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলের কক্ষে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মারামারি ঘটেছে। রবিবার (২১ জুন) রাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজনই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে। আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের নবীন সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ—দুইজনের মধ্যে কক্ষ সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ঘটে। হান্নান মুগ্ধকে রুমে বসে মাদক সেবনের অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কক্ষ পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনো মাদকের সন্ধান পাওয়া না গেলেও পরে হান্নান দাবি করেন, প্রভোস্ট চলে যাওয়ার পর তিনি কক্ষে ফিরে টেবিলের অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশ দেখতে পান।
এই ঘটনার জেরে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য ভাব তৈরি হয় এবং অভিযোগ ওঠে—হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন রাতের খাবারের সময়ে হান্নান থাকাকালে মুগ্ধ ও তার কয়েকজন জুনিয়র সহপাঠী ৬১৫ নম্বর কক্ষে এসে হান্নানের ওপর পালটা হামলা চালায়। আহত হান্নান অভিযোগ করেন, রাতেই ৮-১০ জনের একদল তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায়; তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গেলে বিদ্রোহী হলের হাউজ টিউটর ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক খায়রুল ইসলামও আহত হন।
অন্যদিকে মুগ্ধ পুরো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রভোস্টের তল্লাশিতে কোনো আলামত পাওয়া না যাওয়ায় তিনি কক্ষ থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রুমমেটের ডাকে ফিরে দেখা যায়, তাঁর অনুপস্থিতিতে অ্যাশট্রেতে গাঁজা রেখে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মুগ্ধ জানান, হান্নান প্রথমে তাকে বুকে লাথি এবং গালে চড় মারেন; পরে তার বন্ধুরা হাউজ টিউটরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনা মেটাতে গেলে পুনরায় বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে পরিণত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত জারি রয়েছে।








