ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ইবি সনাতনী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল মুহাইমিন ইসলামকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, মুহাইমিন সনাতনী ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে কুরুচিপূর্ণ একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন, যা নিয়েই শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। তবে অভিযুক্ত মুহাইমিন বিষয়টিকে ‘তুলনামূলক বিশ্লেষণধর্মী লেখা’ বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, তিনি কারো অনুভূতিতে আঘাত intentionalভাবে দিতে চাননি।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে সনাতনী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে মুহাইমিনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানায়। মানববন্ধনের পর তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগও দাখিল করে। শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা নিয়মিত ধর্ম অবমাননার শিকার হচ্ছেন এবং এ ধরনের ঘটনা তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত করে। তাই তারা চায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিক যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অসহনীয় ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘গত ৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল মুহাইমিন ইসলাম সনাতনী ধর্মালম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ও আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে একটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন যা শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, সমগ্র হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশকে নষ্ট করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির ক্ষতি ঘটায়।’

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত ঘটনার দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করবেন।’

অভিযুক্ত মুহাইমিন ইসলাম জানান, ‘আমার লেখা ছিল একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণধর্মী লেখা। রেফারেন্সসহ লেখা হওয়ায় আমার উদ্দেশ্য কোনো ধর্মের অবমাননা করা ছিল না। পোস্ট দেওয়ার পরে কেউ যদি কষ্ট পেয়েছে, তাহলে সরাসরি বলতে পারত। কিছু আক্রমণাত্মক কমেন্টের কারণে আমি অনিরাপত্তায় ভুগছি এবং পরে পোস্টটি মুছে ফেলেছি। যদি কারো অনুভূতি আহত হয়ে থাকে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সার্বিক বিষয়গুলি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।