ঢাকা | মঙ্গলবার | ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় আরও ১৮ গ্রেপ্তার, মোট আটক ৬৫

নোয়াখালীর সদর উপজেলা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলে যুক্ত থাকার অভিযোগে তৃতীয় দফায় আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব সহগত অভিযোগে এখন পর্যন্ত মোট ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে সোমবার (৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে এ দফায় ওই ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাগুলো শরীর কয়েক দফায় সংঘটিত হয়। গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে studentলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম (বাবু) নেতৃত্বে আনুমানিক হাজার খানেক নেতাকর্মী বাঁধেরহাট বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয় এবং সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে।

ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেলে কালাদরাপ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং এক মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই রাত আটটার দিকে ছাত্রদলের প্রতিদ্বন্দ্বি পক্ষের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং তার অফিসে আগুন ধরানো হয়। এসব ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।

বাঁধেরহাটের ঘটনার তদন্তে সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মোট ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে ঘটনার পর প্রশাসনিক হিসেবে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন বলেছে, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।

ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, মামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি কাবু করার চেষ্টা করছে।