ঢাকা | মঙ্গলবার | ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

জয়পুরে রাস্তা সম্প্রসারণে উত্তেজনা: মন্দির-মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন

রাজস্থানের জয়পুরে একটি সড়ক সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জয়পুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জেডিএ)। অভিযানের লক্ষ্য মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বর্তমান ২৫-৩০ ফুট চওড়ার রাসটিকে ৮০ ফুটে উন্নীত করা; তবে সড়কের পার্শ্ববর্তী অনেক স্থাপনাই মন্দির ও মসজিদের সংলগ্ন হওয়ায় পরিস্থিতি সংবেদনশীল রূপ নিয়েছে।

সংস্হার উদ্বেগ ও সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উস্কানির আশঙ্কায় প্রশাসন পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। নন্দপুরী আন্ডারপাস সংলগ্ন ওই এলাকা ঘিরে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাজস্থান আর্মড কনস্ট্যাবুলারির (আরএসি) ১২টি কোম্পানি। এলাকাটি সর্বদিক থেকে সিল করে বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চলছে।

আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জয়পুর উত্তর ও জয়পুর পূর্ব পুলিশ জেলার ৩৪টি থানার আওতায় ২৪ ঘন্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট, বাল্ক এসএমএস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে যে কোন ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে উচ্ছেদ এলাকা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগও অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

এই অভিযানে রাস্তার সীমানার মধ্যে থাকা মোট পাঁচটি ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ তালিকায় রয়েছে—একটি মসজিদ, একটি মাজার/দরগাহ, দুইটি মন্দির এবং একটি সৎসঙ্গ হল। জেডিএর পক্ষ থেকে পূর্বে ধর্মীয় কমিটি ও মালিকদের নিজ উদ্যোগে এসব নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছিল; সময়সীমা ফুরিয়ে গেলে প্রশাসন সরাসরি বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ শুরু করে।

উচ্ছেদ পরিচালনায় সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে নূরানী মসজিদের উচ্ছেদচেষ্টাকে নিয়ে সমালোচনা। রবিবার রাতে মুসাফিরখানায় মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় একটি দোয়া মাহফিল করে উচ্ছেদ বিরোধিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগমଧ‍্যে ছড়ানো সেই মাহফিলের এক ভিডিওতে কংগ্রেস বিধায়ক আমিন কাগজি আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলছেন, ‘‘আমরা নিজেরাই মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমরা শুধু অনুরোধ করেছিলাম মসজিদের আয়তন ৪০ ফুট থেকে কমিয়ে ২০ ফুট করা হোক, যাতে নামাজ পড়ার জায়গা থাকে, কিন্তু প্রশাসন তা মানেনি।’’

অন্য বিধায়ক রফিক খানের দাবি, ওই মাজার স্বাধীনতার আগে থেকে বিদ্যমান এবং নূরানী মসজিদটি ১৯৮১ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয়কৃত জমিতে নির্মিত। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে এই স্থাপনার উন্নয়ন ফি জেডিএ-তে জমা দেয়া হয়েছিল, তবুও ২০০০ সালের পরে কোনো যাচাই ছাড়াই মাস্টারপ্ল্যানে রাস্তাটি ৮০ ফুট চিহ্নিত করা হয়েছে।

রফিক খান ও অন্য প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও বেশি রেখে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে; তবে তারা আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিকল্পিত রাস্তাসংস্কার ও জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনায় করে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আর কোনও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে দেওয়া হবে না।

এই ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ স্থানীয় এবং রাজ্য পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন উঠে এসেছে—মাস্টারপ্ল্যানের পুনঃনিরীক্ষা, ধর্মীয় সম্পত্তির ইতিহাস যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করা নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি থাকলেও ভবিষ্যতে কি উপায়ে সবাইকে যুক্ত করে স্থায়ী সমাধান করা যায়, সেটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।