ঢাকা | শুক্রবার | ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পৃথক সচিবালয়ের জন্য সব দরজা বন্ধ হয়নি: বদরুদ্দোজা বাদল

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হারিয়ে যায়—এমন ধারণাটি সঠিক নয়। বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিলুপ্ত হওয়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছিল। বদরুদ্দোজা বাদল জানান, যারা সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটে নিয়োজিত ছিলেন, তাদের গেজেটভুক্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক; কারণ অর্ডিন্যান্সটি এখনও আইন বা পার্লামেন্টে পাস হয়নি, তাই তারা বলভাবে সেই ফাংশন চালিয়ে যেতে পারেননি—ফলে মন্ত্রণালয়ে অ্যাটাচড করা হয়েছে এবং পরে বিভিন্ন জায়গায় তাদের পোস্টিং দেওয়া হবে।

বদরুদ্দোজা আরও বলেন, ‘‘এর মানে এই না যে, সেপারেট সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি এই বিষয়ে একজন বড় স্টেকহোল্ডার হিসেবে তার দাবি ও অবস্থান রেখে চলবে।’’

তিনি অভিযোগ করেছেন, পূর্ববর্তী কমিটিতে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি থাকেনি, ফলে বিএনপির মতামতগুলো সেখানে উপস্থাপিত হয়নি। এজন্য তারা মনে করেন ওই অর্ডিন্যান্সটি পর্যাপ্ত নয়, অর্থাৎ কমপ্রিহেনসিভ হয়নি। বদরুদ্দোজা বলেন, ‘‘এখন পার্লামেন্টে বিএনপি এটাকে একটি কমপ্রিহেনসিভ বিল আকারে নিয়ে আসবে যাতে পরে কোনো বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ না থাকে এবং এটি পরিপূর্ণভাবে কার্যকারিতা লাভ করবে। তাই মিশিং পিস নেই, দুশ্চিন্তারও কারণ নেই।’’

আদালত অবমাননার সংজ্ঞা সংরক্ষিত কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘আদালত অবমাননার কথা আসে কেন? সংসদে এটা এখনও পাস হয় নাই। আমরা এটাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিল আকারে এমনভাবে আনবো যাতে পরে এ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক না থাকে। এতে আদালত অবমাননার কিছু নেই।’’

বদরুদ্দোজার বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, আপাতত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে বিধিগত কারণে, আর বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে বিএনপি তাদের দাবি-দাওয়া পার্লামেন্টে কার্যকর করে তুলবে।