ঢাকা | শুক্রবার | ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মার্কিন চাপ সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী ঘাঁটি বসাচ্ছে ইসরায়েল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের সেনা প্রত্যাহারের চাপের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী সেনাঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ তাদের প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

মারিভ জানায়, আইডিএফ ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষসূত্রগুলো বলছে দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত এলাকাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী ও অবিচ্ছিন্ন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে এই স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঘাঁটিগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এ সময় সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে যে, গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহকে নির্মূলের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১৩৪ জন নিহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংঘাতনিরসনে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত বুধবার ইতালির রাজধানী রোমে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি সংলাপ হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের শর্তাবলি ও চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে ২৬ জুন এক আলোচনায় লেবাননের দুটি স্থানে সীমিত ও পরীক্ষামূলকভাবে সেনা রেখে বাকি অংশ প্রত্যাহারের বিষয়টি দুই পক্ষের সম্মতিতে এসেছে। কিন্তু এখন স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি ওই শান্তিপ্রক্রিয়ার ওপর বড় হুমকি হিসেবে ধরা পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের এই চলমান সামরিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রকাশ্যভাবে রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্প যত দ্রুত যুদ্ধে সমাধান চান, নেতানিয়াহু তাঁর অভিযানে অনড় — আর এই অবস্থানই ওয়াশিংটনের চাপ উপেক্ষা করে ঘাঁটি স্থাপনের পটভূমি তৈরি করছে, এমনটি বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা যদি কঠোরভাবে চালিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে দীর্ঘায়িত এবং জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি এলাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়তে পারে। এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নজর রাখছে এবং ভবিষ্যতের কূটনীতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপের ওপর এ সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।