ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিইউপিতে ১৭তম বার্ষিক সিনেট সভার সফল আয়োজন

১৯ জুন ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর ১৭তম বার্ষিক সিনেট সভা বিইউপির বিজয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিইউপির উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ মাহ্বুব-উল আলম, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল ও পিএইচডি।

সভাটি শুরুতেই উপাচার্য মেজর জেনারেল মাহ্বুব-উল আলম বিদায়ী সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নবনিযুক্ত সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর বিইউপির ট্রেজারার এয়ার কমোডোর মোঃ রেজা এমদাদ খান ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট হিসেবে ১৩৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য ১৩৪ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার বাজেট পর্যালোচনা করে উপস্থাপন করেন।

সিনেট সদস্যরা ট্রেজারারের বাজেট প্রস্তাব নিয়ে গভীর আলোচনা শেষে তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেন। পাশাপাশি ১৭তম বার্ষিক প্রতিবেদনও উপস্থাপন করে সমর্থন লাভ করে। সভার সার্বিক সঞ্চালনা করেন বিইউপির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ রাব্বি আহসান, এনডিসি, পিএসসি।

সিনেট চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মাহ্বুব-উল আলম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিইউপি যদিও নবীন প্রতিষ্ঠান, তবুও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও গবেষণা ভিত্তিক কার্যক্রমে দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। যুগোপযোগী শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি স্পষ্ট Academic Strategic Plan-২০৫০ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের মান উন্নয়ন, আউটকাম বেসড এডুকেশন (OBE) কারিকুলাম প্রণয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রকাশনা এবং গবেষণা সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও জানান যে, গবেষণার ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে BUP Research Centre (BRC) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ফ্যাকাল্টি ও আনুষঙ্গিক সংস্থায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। ‘Inspiring Innovation for Advancing Knowledge’ শ্লোগানকে ধারণ করে, এই কেন্দ্র গবেষকদের মানসম্মত গবেষণায় উৎসাহিত করছে এবং শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের মধ্যে সংযোগ উন্নত করছে।

অধিকন্তু, বিইউপি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য প্রতি বছর ৫টি জার্নাল নিয়মিত প্রকাশ করছে, যা বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক সমাদৃত। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামগ্রিক চরিত্রগঠনেও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করছে বিইউপি।

আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আলোচনা সভা, সিম্পোজিয়াম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জাতীয় দিবসের তাৎপর্য প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সিনেট সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং বিইউপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই সভার মাধ্যমে বিইউপি তার একাডেমিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতির সুস্পষ্ট চিত্র সকলের সামনে উপস্থাপন করেছে।