২০০৯ সালে ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স চূড়ান্ত হয়েছিল, তার মধ্যে আলাদাভাবে নির্দেশ ছিল, ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে। তবে এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র জমা পড়েনি, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অস্ত্রগুলো জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও সাড়া কম পাওয়া গেছে। ডিসি সম্মেলনে এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ বিপুল সংখ্যক অস্ত্র দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূত্র জানিয়েছে, দেশের মোট বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা এখন প্রায় ৫০ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী দলের সদস্যরাই এসব অস্ত্রের বড় অংশের মালিক। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কেউ অস্ত্র ব্যবহার করে ভয় দেখান বা প্রদর্শন করে, তবে পুলিশ জেলা প্রশাসনকে জানাতে বাধ্য, যার ভিত্তিতে কারাদণ্ড বা লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র জমা পড়েনি। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাক-নির্বাচনী সময়ে সংগ্রহ করা অস্ত্রও এখনও ফেরত চলে যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর জন্য একটি চিঠি দিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে দ্রুত অস্ত্রগুলো ফেরত দিতে। চিঠিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে অস্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: প্রথম, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র; দ্বিতীয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র; এবং তৃতীয়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু হওয়া লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করতে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে।









