ঢাকা | মঙ্গলবার | ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ভিন্নধর্মী কাহিনীতে আলোচনায় খায়রুল বাসার ও সাদনিমার ‘বই পোকা’

পবিত্র ঈদুল আজহার ছবির বহরেই আলাদা ব্যানারে সাড়া ফেলে দিয়েছে নাটক ‘বই পোকা’। ২ জুন ইউটিউব চ্যানেল ‘ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট’-এ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ও প্রশংসার মুখে। মাত্র চার দিনের মধ্যে নাটকটি প্রায় ৯ লাখ দর্শক দেখেছেন এবং কাগজ-পড়ার গুরুত্ব ও পারিবারিক বন্ধনের ওপর নির্মিত গল্পটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে কমেন্ট বক্সে হাজারো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জমেছে।

গল্পের মূল ভাবনা দেওয়া ছিলেন আকবর হায়দার মুন্না; রচনার কাজ করেছেন লিমন আহমেদ এবং তথ্যসমৃদ্ধ পরিচালনায় ছিলেন তপু খান। নির্মাতারা বলেন, আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত আসক্তি ও তার পারিবারিক ও মানসিক প্রভাবই নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয়। গল্পের মধ্যদিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বই ও সাহিত্যের দিকে ফিরিয়ে আনার একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। পরিচালক তপু খান জানিয়েছেন, এমন বাস্তবসম্মত ও জীবনস্পর্শী বিষয় দর্শকদের কাছে সহজে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা ছিল এবং দর্শকদের উষ্ণ সাড়া দেখে পুরো টিম উৎসাহিত।

প্রধান চরিত্রে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও সাদনিমা বিনতে নোমান। দুজনের খেঁচিয়ে ওঠা অনুভবঘন অভিনয় এবং পর্দায় তাদের রসায়ন নজর কাড়ে। খায়রুল বাসার বলেন, নাটকের সংলাপগুলো হৃদয়স্পর্শী এবং চরিত্রগুলোর মধ্যে মানবিকতা ফুটে উঠেছে, যা দর্শককে সহজে আবেগগতভাবে জড়িয়ে নিচ্ছে। সাদনিমা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে ‘বই পোকা’ তার অন্যতম প্রিয় কাজ; নিজের চরিত্রটিতে তিনি নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেছেন।

নাটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী আজিজুল হাকিম, মুনীরা ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা ও রোজি সিদ্দিকী। এছাড়া প্রবীণ অভিনেতা তারিক আনাম খান একটি বিশেষ চরিত্রে উপস্থিত থেকে গল্পের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। সমন্বিত কাস্টিং ও চিত্রগ্রহণ, संगीत এবং সম্পাদনার কারণে নাটকের আবহ ও বার্তাও শক্তিশালীভাবে উঠে এসেছে।

রচয়িতার কথায়, মানুষ এখন বই পড়া থেকে দূরে সরে যাওয়া থেকে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে—তাই ছিল মূল অনুপ্রেরণা। নাটকটি সেটি সরাসরি না দেখিয়ে আল্পটিক ও সযত্নভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে দর্শকেরা নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবিটা দেখতে পান। অনেক দর্শক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, নাটকটি শুধু বিনোদন নয়—এক ধরনের সতর্কবার্তা, যা পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে মূল্যায়ন করায়।

সমগ্র পরিবারকেন্দ্রিক ও ঐতিহ্যবাহী অনুভূতির সঙ্গে শিল্পী ও নির্মাণ দল যে সততা ও যত্ন দেখিয়েছে, তাতে ‘বই পোকা’ কেবল ঈদের এক নাটক হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক দলিল হিসেবেও সমাদৃত হচ্ছে। নির্মাতারা আশা করেন এই সাড়া ভবিষ্যতে আরও অধিকতর গঠনমূলক ও বার্তাবহ নাটক নির্মাণের পথ খুলে দেবে। দর্শকদের ভালোবাসায় ‘বই পোকা’ এখন বছরের অন্যতম সফল ঈদ নাটকের তালিকায় জ জায়গা করে নিয়েছে।