ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে চীন সফরে যাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি ৯ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আগামী রবিবার (২২ জুন) চীন সফরে যাচ্ছে। সফরটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য সৈয়দ সায়রুল কবীর খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য হল দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি এই সফরে থাকবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির চার সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তিনজন – জহির উদ্দিন স্বপন, ইসমাইল জাবিউল্লাহ এবং অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, পাশাপাশি দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলও এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।

সফর শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় চীনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে চীনা দূতাবাসে সাক্ষাৎ করবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিবেচিত চীনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সফর বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থায় বিএনপিকে একটি ‘প্রতীক্ষমাণ সরকার’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যার জন্য পরবর্তী নির্বাচনের অপেক্ষা চলছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই সফর চীনের বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ। গত বছর ৫ আগস্টের ঘটনাবলের পর থেকে চীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনেক দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিএনপি, সদ্য গঠিত এনসিপি এবং কিছু ইসলামপন্থী দল।

এর আগে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আটটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ১১ দিনের সফরে চীন যায়। ওই সফরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই সফর বাংলাদেশে বহুদলীয় সম্পর্ক জোরদারের কৌশলের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সফরকালে প্রতিনিধিদল বেইজিং, শানশি এবং ইউনান প্রদেশে সিপিসির কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। এভাবেই বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।