যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর শীর্ষ ৩৬ ক্লাবের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত লিগস কাপের একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন নারী রেফারি কাতিয়া ইতজেল গার্সিয়া। তিনি মেক্সিকান এই রেফারি গত ৩১ জুলাই এফসি সিনসিনাটি ও মোন্তেররেইয়ের মধ্যে খেলা শেষে নিয়ে যান বিতর্কের দিকে। লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি ও সের্হিও রামোসের মোন্তেররেইসহ টুর্নামেন্টের শীর্ষ দলগুলি অংশগ্রহণের এই প্রতিযোগিতায় মোন্তেররেইয়ের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ম্যাচে ৩-২ গোলে পরাজয় হলে কাতিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পরিবারের সত্যক্রমসহ হত্যার হুমকির শিকার হন।
ইনস্টাগ্রামে একাধিক বার্তায় হুমকি দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়, ‘তুমি মারা যাবে, মেক্সিকোতে আমরা রাজত্ব করব, তোমাকে অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলব’ এবং ‘তোমার পুরো পরিবারকে মেরে ফেলব।’ এসব বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে কাতিয়া একটি স্টোরি পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘মেক্সিকোতে প্রতিদিন নারী ও মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে সহিংসতায়। আমরা এটি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি সব ধরনের সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
ম্যাচের সময় কিছু খেলোয়াড় অভিযোগ করেন গোলটি অফসাইড ছিল, কিন্তু ৩২ বছর বয়সী কাতিয়া ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) রিভিউয়ের পর সিনসিনাটির গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন। এটি কিছু উগ্র সমর্থকের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তারা কাতিয়া ও তার পরিবারের জন্য মারাত্মক হুমকি প্রদান করে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দ্রুত এই ঘটনাকে মূল্যায়ন করে কাতিয়াকে প্রতিরক্ষা দেয়। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘লিগস কাপের ম্যাচের পর কাতিয়া ইতজেলকে দেওয়া হুমকি আমাকে গভীরভাবে হতাশ ও দুঃখিত করেছে। ফুটবলে ও সমাজে কোনো রকম সহিংসতা, বৈষম্য ও নির্যাতনের জায়গা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন এবং কনকাকাফের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’
কাতিয়া ইতজেল গার্সিয়া ২০১৭ সাল থেকে পেশাদার রেফারি হিসেবে কাজ করছেন এবং ২০১৯ সালে তিনি আন্তর্জাতিক রেফারিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০২৪ সালের মার্চে মেক্সিকোর লিগা এমএক্স-এ মাঠে দায়িত্ব পালন করেন, যা ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে নারী রেফারি হিসেবে অংশগ্রহণের ঘটনা ছিল।









