ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হবে। এমন চুক্তির কারণে বাংলাদেশের স্বাধীন অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও সার্বভৌমত্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা দেবে এবং দেশটি নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় অসুবিধার মুখে পড়বে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আহ্বানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ সঞ্চালনা করেন এবং আয়োজক সংগঠন থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদও বক্তব্য রাখেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি হলে তাদের রাজনৈতিক বিরোধ থাকা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ও লাভজনক সম্পর্কও বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বাণিজ্যের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়—এটি নীতিনির্ধারণে বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আভাস দেন, চুক্তির শর্তাবলীর কারণে দেশীয় বাজারে অনাবশ্যক পণ্যের আমদানির চাপ পড়বে। এমনকি আমরা যেখানে কম দামে পণ্য সংগ্রহ করতে পারি, সেখানে নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আমদানি করতে বাধ্য করা হতে পারে, যা বাজারবিকৃতি ও অর্থনীতিকে অযৌক্তিক ব্যয়ে আটকে দেবে।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তিনি আরও বলেন, স্বাধীনভাবে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয়-বিক্রি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাংলাদেশের ক্ষমতা সংকুচিত হবে; এসব সিদ্ধান্ত অগ্রাধিকার পাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নির্দেশনার আলোকে।

ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, চুক্তিটি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। বর্তমান জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনশীলতা তুলনামূলকভাবে নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে গড়ে উঠেছে। কিন্তু কঠোর মেধাস্বত্ব বিধি আরোপ হলে স্থানীয় কোম্পানিগুলো আর সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না, ফলে ওষুধের খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষক মাহা মির্জা সতর্ক করে বলেন, চুক্তি স্থানীয় শিল্পকে ধসে দেবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা পোল্ট্রি ও ক্ষুদ্র-পল্লী শিল্পসহ কুটির খাতগুলো নাজুক অবস্থায় পৌঁছে যাবে। এতে গরিব মানুষের রুটি-রুজি সরাসরি বিপন্ন হবে। তিনি জানান, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘসময় জনগণের আস্থায় টিকে থাকতে পারে না।

সভায় বক্তারা একযোগে বাণিজ্যচুক্তিটি বাতিলের দাবিও জানান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দেন। তাদের বক্তব্য—বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তিকে এই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে; বহিরাগত দিকনির্দেশ মেনে দেশকে এগোতে দেওয়া যায় না।