ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রপ্তানি ভর্তুকি নিরীক্ষায় অডিট ফার্ম নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

রপ্তানিতে বিকল্প নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি সংক্রান্ত আবেদনগুলো আরও স্বচ্ছ এবং ঝুঁকিমুক্ত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (এফইপিডি-১) থেকে প্রকাশিত সার্কুলারে দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসকে এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষায় নিয়োজিত সমসংখ্যক অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করা যাবে। অর্থাৎ ব্যাংকে যে পরিমানে নিরীক্ষক নিয়োজিত আছে, সেই সমসংখ্যক বা সমমানের অডিট ফার্মকে ভর্তুকি আবেদনগুলো যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে—কিন্তু এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগ করতে চায়, তাহলে আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এমন অনুরোধ জমা দেওয়ার সময় ব্যাংককে অডিট ফার্ম নিয়োগের যৌক্তিকতা, সংশ্লিষ্ট ফার্মের পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা, ভর্তুকি আবেদনসমূহের মোট সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।

নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে এটি ভর্তুকি প্রদানে সম্ভাব্য জালিয়াতি রোধ, সঠিক যাচাই-বাছাই এবং আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে। নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী হলে রপ্তানি খাতে ভর্তুকি বন্টন আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগে জারি করা ৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ও ৬ জুলাই ২০২৪ সালের সার্কুলারগুলোর অন্যান্য সব শর্ত এবং নির্দেশনা অপরিবর্তিতভাবে বহাল থাকবে বলেও বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের কঠোর মানদণ্ড রপ্তানি খাতের উন্নয়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করবে। তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে ভর্তুকি আবেদন নিষ্পত্তির সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং পেশাদার, পরীক্ষিত অডিট ফার্মের সহায়তা গ্রহণ করতে বলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে, এভাবে ভর্তুকি বন্টনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দাপ্তরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।