ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডে-কেয়ার সেন্টার দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র শুধুই নিরাপদ আশ্রয় নয়—এগুলো দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবের কারণে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সোমবার রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানটির সভাপতি ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

উক্তির আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকালে তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), তারপর ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং পরে পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন কিভাবে মানসম্পন্ন পরিচর্যা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ শিশুদের সার্বিক বিকাশে সহায়তা করে।

ডা. জুবাইদা বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় নারীর অংশ ৫০.৫৮% এবং দেশের প্রায় ২৮.৩৬% মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। কর্মজীবী মায়েদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের চাহিদা অতীব জরুরি। বর্তমানেও ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে মোট ৭,৩৬০ জন শিশু সেবা পাচ্ছে, যা মোট শিশুমাজোর মাত্র প্রায় ০.৩৪% সন্তানের চাহিদা পূরণ করছে।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা ও মান আরও বাড়াতে হবে।

ডা. জুবাইদা আরও বলেন, মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুর জ্ঞানীয় ও সামাজিক ভিত্তি মজবুত করবে। শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়; এই সময়েই সততা, নিষ্ঠা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল ও অধ্যবসায়ের মতো গুণাবলি গড়ে ওঠে।

তিনি উল্লেখ করেন, দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখে না, একই সঙ্গে শতশত নারীর কর্মজগতে অংশগ্রহণেরও সুযোগ সৃষ্টি করে—যা জাতীয় উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডা. জুবাইদা সকল সংস্থাকে একযোগে কাজ করে মানসম্মত দিবাযত্ন সেবা সম্প্রসারণে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।