ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাতের অন্ধকারে ঋতুপর্ণাদের ফুলের তোড়ায় ব্যয় ২০ লাখ টাকা

মিয়ানমারের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে এক নতুন গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এই নারী ফুটবল দল, যা তাদের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত। গত শনিবার গভীর রাতের আঁধারে মিয়ানমার থেকে ফিরে এসেছে দল, এবং সেদিনই বাফুফে তাদের সংবর্ধনা দিয়েছিল আড়টা নাগাদ হাতিরঝিলের এম্পিথিয়েটারে।

অনেকেই ধারণা করেছিলেন বাফুফে তাদের জন্য কোনো বড় সারপ্রাইজ রেখে রেখেছে, কারণ দীর্ঘ তিনটি ম্যাচ খেলেই দল যথেষ্ট ক্লান্ত ছিল, পাশাপাশি ভ্রমণ ক্লান্তি ও তাদের ওপর চাপও ছিল। ফুটবল খেলোয়াড়দের মনে আশার আলো জেগেছিল যে বাফুফে বড় কোনো ঘোষণা দেবে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে, শুধু একটি ফুলের তোড়া হাতে তুলে দেয়া হয়, যা অনেকেই হতাশাজনক মনে করেছেন।

অফিসিয়ালি প্রকাশ না করলেও খেলোয়াড়রা এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, “কেন রাতের ঘুম না কেটে শুধু একটা ফুলের তোড়া দিতে হল? এটা বাফুফের অফিসেই দেওয়া যেত। আমরা সারপ্রাইজ আশা করেছিলাম, কিন্তু তা না হয়ে শুধু ফুলের তোড়া পেয়ে অবাক হয়েছি। বাফুফে কিছু দিতে চাইলেও তা ঘোষণা করেনি। তাহলে এত রাতে আমাদের হাতিরঝিলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল?”

ঢাকায় ফিরে খেলোয়াড়রা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তাদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রায় ৯ মাস পার হলেও আজ পর্যন্ত বাফুফের ঘোষণা করা দেড় কোটি টাকা পুরস্কার এখনও পাননি তারা। বাফুফে জানিয়েছিল তারা পুরস্কার দেবে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এশিয়ান কাপের মতো বিশাল মঞ্চে খেলার পর সময় নিয়ে পরিকল্পিত ও জমকালো সংবর্ধনা দেয়া যেত, সরকারের সাথে সমন্বয় করে বড় আকারে সম্মান জানানো যেত। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে এক ঘণ্টার মধ্যেই সংবর্ধনা দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে!

বাফুফের এক সূত্র জানিয়েছে, সংবর্ধনার জন্য হাইভোল্টেজ এবং কে-স্পোর্টস নামক দুটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এবং এর জন্য ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই বিল পেয়ে বাফুফে চুপসারে অবস্থা সামলাচ্ছে। কিছুদিন আগে ফুটবলারদের বেতন প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।