চাঞ্চল্যকর রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার আগামীকাল, ১ জুন থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আজ রোববার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করেন যে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে—এই বিশ্বাস সরকার রাখে।
আইনমন্ত্রী মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুতগতিতে কাজ করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত abgeschlossen করে সময়মতো চার্জশিট জমা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করেছে। মামলাটি আদালত খোলার প্রথম দিন থেকেই শুনানির তালিকায় রাখা হয়েছে এবং এর গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর কথায়, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ দণ্ড দাবি করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গঠিত প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের কমিটির ব্যাপারে জানান, এখনো বিরোধী পক্ষ থেকে কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পাঁচজনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে; বিরোধী দলের বরাদ্দ পাঁচজনের নাম প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের নাম পেলে জুলাই মাসে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের মূল কাজ শুরু করা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, মানবাধিকার আইন ও গুম (নির্যাতিত ব্যক্তির অনিশ্চিত অস্তিত্ব) কমিশন আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের প্রথম পর্যায়ের পরামর্শ সভা ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখান থেকে আসা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামত এখন গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে এবং বাস্তবসম্মত সময়ে জনস্বার্থে এগুলো কার্যকর করার জন্য কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন শক্তিশালী করতে সরকার ধাপে ধাপে উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
মন্ত্রী সভা ও মামলা সংক্রান্ত এসব তথ্য জানিয়ে নাগরিকদের ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং প্রশাসন ও আইনপ্রণয়কদের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।







