ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শুল্ক নীতি নিয়ে শুনানিতে তীব্র প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

অতিমাত্রায় শুল্ক আরোপের বিষয়ে এক মামলার শুনানিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তীব্র মন্তব্যের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই মামলাটি শুধুমাত্র তার শুল্ক নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব কোথায় গড়াতে পারে, তারও ঝুঁকি বহন করছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আমদানি শুল্কের বিষয়টি নিয়ে বিচারপতিদের বেশ কয়েকজন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে বেশ কিছু রক্ষণশীল বিচারপতিরাও রয়েছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের দাবি, আমদানি শুল্কের মাধ্যমে মার্কিন শিল্পক্ষেত্রের উন্নতি ও বাণিজ্য ঘাটতিকে কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন—একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য থাকলেও, বিচারকদের অনেকেই মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের আড়ালে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রয়েছে।

এই মামলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অনেক অঙ্গরাজ্য সাংবাদিকতামূলকভাবে প্রেসিডেন্টের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে করের সমতুল্য শুল্ক আরোপ করেছেন, যা কি না সংবিধানভিত্তিক নির্দেশনার পরিপন্থী।

সর্বোচ্চ আদালত, যেখানে নয়জন বিচারপতি রয়েছেন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এই মামলার রায় দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকের মনে হয়, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সম্প্রসারণের বড় একটি পরীক্ষার মতো।

বিচারপতি অ্যামি কনি ব্যারেট এই শুল্ক নীতির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্নоля করেন, যেখানে তিনি বলেন, ‘আপনি কি বলছেন যে দেশের জন্য প্রতিরক্ষা ও শিল্পের জন্য হুমকি বিবেচনা করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে? যেমন, স্পেন বা ফ্রান্স?’ তারপরে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘কিন্তু এতগুলো দেশের ওপর এমন পারস্পরিক শুল্কনীতির প্রয়োজনে কী পড়ল?’

এই মামলার কারণে বিলিয়ন ডলার শুল্ক অর্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যদি ট্রাম্প প্রশাসন হেরে যায়, তবে সরকারের সংগ্রহকৃত এই বিশাল পরিমাণ অর্থকে ফেরত দিতে হতে পারে, যা অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রিচার্ড গ্রিয়ার। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদি আদালত তাদের পক্ষে না থাকে, তারা অন্য কোনো বিকল্প রাস্তাও অবলম্বন করবে।

১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) কেন্দ্র করে এই মামলার যোগাযোগ। এই আইনে জরুরি অবস্থায় প্রেসিডেন্টকে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রথম ফেব্রুয়ারিতে এই আইনের আওতায় চীন, মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যগুলোর ওপর গভীর শুল্ক আরোপ করেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, এসব দেশ থেকে পাচার হওয়া মাদকরা মার্কিন সংস্থার জন্য ‘জরুরি অবস্থা’ সৃষ্টি করছে। এরপর তিনি এপ্রিলেও একই আইনের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যগুলোতে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন, যাতে তার দাবি ছিল, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ‘অসাধারণ’ ও ‘অসামাজিক’ হুমকি তৈরি করছে।

গ্রীষ্মের সময় এই শুল্কগুলো কার্যকর হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে চুক্তি করার জন্য চাপ দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা এটাই অন্তর্ভুক্ত করে ট্রাম্পের প্রশাসনের ক্ষমতা, যেখানে দেশটির সম্মুখীন অনেক ‘দেশ-ধ্বংসকারী ও অস্থিতিশীল’ সংকট রয়েছে।

প্রশাসনের এক আইনজীবী, সলিসিটর জেনারেল জন সাউয়ার সতর্ক করে বলেন, যদি আদালত ট্রাম্পের এই ক্ষমতাকে অকার্যকর ঘোষণা করে, তবে এটি ‘নিষ্ঠুর বাণিজ্যপ্রতিশোধ’ শুরু করবে, যা দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আসবে।