ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সান মারিনো সফরে বাংলাদেশ দলে হামজা চৌধুরী যোগ

আগামী ৫ জুন সান মারিনো ওয়েবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দল গত সোমবার সান মারিনোয় পৌঁছায় এবং মঙ্গলবার রাতে তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী সরাসরি যোগ দেন, যা সফরের বড় শক্তি বৃদ্ধি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর আগে প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোম ও জায়ান আহমেদও দলের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। হামজার আগমনে খেলোয়াড়দের মনোবল বেড়েছে এবং দলীয় উত্সাহ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

দীর্ঘ প্রায় ২৪ ঘণ্টার ক্লান্তিকর যাত্রার পর প্রথম দিন খেলোয়াড়রা একটি রিকভারি সেশনে অংশ নেয়। পরদিন থেকেই দলের অনুশীলন পুরোদমে শুরু হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) শুরু হওয়া অনুশীলন সেশন প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে। দলের ম্যানেজার আমের খান জানিয়েছেন সান মারিনোর আবহাওয়া দ্রুত বদলাচ্ছে—প্রথম দিন ঠান্ডা থাকলেও দ্বিতীয় দিনে গরম ছিল, যা অনেকটাই বাংলাদেশের আবহাওয়ার অনুকূল। খেলোয়াড়রা নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নতুন কোচ থমাস ডুলি দলের দীর্ঘ ভ্রমণ ও প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তার ভাবনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আফ্রিকার পথে দীর্ঘ উড়ান করে ইতালিতে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার সড়কভ্রমণের পর সান মারিনো পৌঁছেছেন। যদিও সান মারিনো ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছনে আছে, তবু তারা নিয়মিত ইতালি, জার্মানি ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে—এ কারণে এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। ডুলি আত্মবিশ্বাসী যে তার দল ইউরোপের মাটিতে নিজেদের সেরাটা দেখাতে সক্ষম হবে।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার ফাহমিদুল ইসলামও সফরের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সান মারিনোর পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পরিচিতি থাকায় তিনি সতীর্থদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় টিপস ভাগাভাগি করছেন। ফাহমিদুল বলেন, পুরো দল ইউরোপে খেলতে পেরে খুব উৎসাহিত এবং সবাই জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে।

ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ৫ জুন রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে, যা নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে। সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা সেটি মেনে নিয়েছেন এবং কোচ ও ম্যানেজমেন্ট শারীরিক ফিটনেস ও কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন। হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গড়া দলটি ইউরোপীয় মাটিতে কী ফল দেখাবে—এটাই এখন বড় নজর কাড়ার বিষয়।