জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবী করেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিশ্বসেরা প্রতিরক্ষা শক্তির দাবিদার হলেও অতীতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে বিরত রেখেছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চৌরাঙ্গী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা জানান।
সারজিস আলম বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার সময় बीজিবি সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে পারেনি। সীমান্তে পুশইনের ঘটনাকে অবশ্যই বাংলাদেশবিরোধী ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখনও সন্তোষজনক নয়। যে ব্যক্তি হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নির্দেশ দিয়েছে, সেই শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তাই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রকৃত প্রতিবেশীর মতো আচরণ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রিত থাকবেন, ততদিন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।’’
সারজিস আলম বলেন, ‘‘সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশীর মতো শ্রদ্ধাশীল ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য। ফলে, ভারত এখনও যে আচরণ করেছে তা সন্তোষজনক নয় এবং এভাবে কখনো প্রকৃত প্রতিবেশীর মত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘ভারত তাদের নাগরিক ও এজেন্টদের মাধ্যমে পুশইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ কারণে শুধু বিজিবিই নয়, প্রতিটি নাগরিককেই সজাগ থাকতে হবে।’’
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘‘দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সবাই এগিয়ে আসুন।’’
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ আহত হওয়ার পেছনে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা, যিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকার বিজিবিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে তার শক্তিপ্রদর্শনের সুযোগ দেয়নি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সব সময় নিজেদের বড় মনে করেছে। আসল শক্তি অস্ত্র নয়, মনোবল ও সাহসে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এদেশের প্রকৃত সাহস প্রদর্শনের প্রমাণ।’’
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেশের সার্বভৌমত্বকে নিয়ে কোনো আপস না করারও আহ্বান জানান।
পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা, কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদ ও লালমনিরহাট জেলা সমন্বয়ক রকিবুল হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








