অফিসে-কলমে ‘মৈत्रীর সোনালী অধ্যায়’ বললেও, বাস্তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সূচনালগ্নে যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে ছিল, তা এখন অনেকখানি ক্ষয়ে গেছে। ভারতের বর্তমান সরকারের নানা সিদ্ধান্ত এবং তার আচরণে ঢাকা-দিল্লির স্বাভাবিক বন্ধুত্বের সম্পর্কের বদলে আজ মুখে মুখে মিশে গেছে তিক্ততা ও অস্বস্তির অস্তিত্ব। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সীমান্তে হঠাৎ করে এক নজিরবিহীন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের তোয়াক্কা না করে ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি উপেক্ষা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জোরপূর্বক নারী, শিশু এবং পুরুষদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার একটি ব্যাপক ও পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনাকে সাধারণভাবে ‘পুশইন’ বা ঠেলে দেওয়ার ন্যাক্কারজনক চর্চা বলা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম ও অভ্যন্তরীন রাজনীতির জটিল বিবেচনায়, অবৈধ নাগরিকদের এরকম ঠেলে দেওয়ার প্রস্তুতিও চালু হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে, সীমান্তে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বুধবার রাতে পঞ্চগড়ের সীমান্তে বিএসএফের এক চক্র ১০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বিজিবির দ্রুত ও কঠোর উদ্যোগে ওই ১০ জনকে বিএসএফের আক্রমণ থেকে মুক্ত করা হয় এবং তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন সীমান্তে নিয়মিত এই ধরণের পুশইনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, যেখানে বিএসএফ নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিচ্ছিন্নভাবে অনেক নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সচেতনতায় কিছুটা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, এই অপকর্মের বিরুদ্ধে সতর্কতা অব্যাহত। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, পরিস্থিতির ওপর নজরদারিতে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে নিয়োজিত বাহিনী ও স্থানীয় জনসমর্থকদের অংশগ্রহণে পুশইন প্রতিরোধে একযোগে কাজ চালানো হচ্ছে, যেন কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকানো সম্ভব হয়। এই পরিস্থিতির দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, কারণ একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস ও অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।








