ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

বাংলাদেশের পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে সৌদি আরব ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ থেকে বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইন পর্যন্ত বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্বের পথ খোলা হবে বলে দুই পক্ষ আশা করছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সাথে এক উচ্চস্তরের বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ অগ্রগতি, সম্ভাব্য প্রকল্প এবং আগামী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। পিপিপিএ, বিডা ও বেজা (বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি)-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনার সময়ে সৌদি উপমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার সরকারি নীতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের নীতिगत অভিযোজন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপকল্পের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, ফলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগগুলো দ্রুত বেগ পেতে পারে।

ড. রুমাইহ বলেন, “সৌদি আরব নিজেকে একটি বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক বিনিয়োগে পূর্ণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বিস্তার করতে আগ্রহী এবং একই সঙ্গে সৌদিতে ব্যবসা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্বাগত জানাই।”

উপমন্ত্রী বৈশিষ্ট্য হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল—‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল’ (আরএসজিটি)-এর কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই টার্মিনালে কর্মীদের ৯৮ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি, যা স্থানীয় দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে গণ্য। আরএসজিটি এই সফলতার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতের আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি প্রবর্তন এবং দক্ষতা উন্নয়নে আরও বিনিয়োগের খোঁজ করছে।

বৈঠকের পরে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের আগ্রহ বিশেষত লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্কসহ কিছু নির্দিষ্ট খাতে গভীর। এসব আগ্রহ আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, আর্থিক সেবা খাতেও সৌদি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় কাজ শুরু হয়েছে, যাতে আলোচনাগুলো দ্রুত বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।