এটি উল্লেখযোগ্য যে, এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশি মুসল্লিরা যথাযথ তদারকি এবং নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে সক্ষম হন। শুক্রবার কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে হজের মূল কার্যাবলি শেষ হয়, এরপর থেকেই হাজিরা দেশে ফিরতে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত থেকে ফিরতি ফ্লাইটের কার্যক্রম শুরু হয়। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশি হাজিরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রথম দিনেই ১৩টি বিমানে করে পাঁচ হাজার চার শতাধিক হাজি বাংলাদেশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আছেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর, ২১ মে শেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছান। এই বছর সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবাসন, পরিবহন ও ভিসা সংক্রান্ত প্রস্তুতিগুলো সময়মতো সম্পন্ন হয়, ফলে নিবন্ধিত সব হজযাত্রী কোনো বড় বিরক্তি বা অপ্রাপ্তির ছাড়া পবিত্র ভূমি সফর করতে সক্ষম হন। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার কারণে এবারের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের একক সফলতা নয়; বরং এটি মহান আল্লাহের অনুগ্রহ।’
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেয়া বিশেষ নির্দেশনায় হজযাত্রীদের সেবা উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং এবং পানি সরবরাহের সুবিধাও ছিল। তিনি ভবিষ্যতে হজের খরচ কমানো এবং বেসরকারি এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন, বলেন, ‘উন্নত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এবারের হজ সম্পন্ন হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। এ জন্য সৌদি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ সরকার, সৌদি সরকার, হজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সফলতা এসেছে। তবে সবকিছুর ওপরে রয়েছে মহান আল্লাহর রহমত।’
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারও হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন, ‘এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফল। কোনো বড় অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই সব ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যা সবরকম সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সরকারের ধারাবাহিক শাসন, সৌদি কর্তৃপক্ষের চমৎকার সমন্বয় এবং এজেন্সিগুলোর নিষ্ঠার কারণেই হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্যে পবিত্র হজ পালন করতে পেরেছেন।







