আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়া আমেরিকান হরর ছবি ‘দ্য মমি’ গতকাল থেকে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্স কাঁপিয়ে তুলছে। পরিচালক লি ক্রোনিনের সুনিপুণ নির্দেশনায় নির্মিত এই ছবি প্রথম থেকেই ভিন্ন ধরনের ভীতিকর অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়—পূর্ববর্তী সিরিজের অ্যাডভেঞ্চারজ্ঞান থেকে এটি একেবারেই আলাদা, সরাসরি রেটিং-আর-এর বডি-হরর হিসেবে দর্শকদের সামনে আসে।
কাহিনী ঘোরে এক সাংবাদিক পরিবারের চারপাশে; শুরুতে তাদের সংসার স্বাভাবিক, সুখেই ভরপুর। হঠাৎ ছোট কন্যা নিখোঁজ হয়ে গেলে তবু আট বছর নিখোঁজ থাকার পর শেষে তাকে মরুভূমির এক দুর্গম জায়গা থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত দিকটি হলো—চোখে পড়ার মতো কোনো শারীরিক পরিবর্তন ছাড়াই মেয়েটির আচরণে পরিলক্ষিত হয় বিস্ময়কর উল্টাপালটা।
ফিরে আসার পর থেকেই মেয়েটির অদ্ভুত কথা-কহানী, নৈশাচর রূপান্তর এবং গোপন রহস্য পরিবারটিকে ধীরে ধীরে বিভীষিকাময় অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়। মমতাময়ী মা যখন নিজের সন্তানের উপর অন্ধবিশ্বাস রাখতে চান, বাবা তখন হতাশ ও সন্দেহগ্রস্ত থেকে এক ভয়ংকর সম্ভাবনা উপলব্ধি করেন—তারা হয়তো তাদের খুঁজে পাওয়া শিশুটিকে সঠিকভাবে চেনেনই না। এই মানসিক দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক টানাপোড়েন ছবিটিকে কেবল সাঁই-চৈ-ভর করা বিশেষ এফেক্ট নয়, বরং নাটকীয় গভীরতা দেয়।
জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই ও নাটালি গ্রেসসহ অভিনেতারা তাঁদের চরিত্রগুলোর অতি সূক্ষ্ম আবেগ-উপলব্ধি তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে নিখোঁজ কন্যার রহস্যময় রূপান্তর দর্শকদের মধ্যে উপযুক্তভাবে ত্রাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন—পারিবারিক আবেগের সঙ্গে জোড়ে দেয়া উগ্র ও হৃদয়কাড়ানো ভৌতিক দৃশ্যের এই মিশ্রণ ছবিটিকে বছরের সেরা ভৌতিক নির্মাণের মধ্যে রাখতে পারে।
যারা প্রথাগত রোমাঞ্চের বাইরে গিয়েই সত্যিকারের মেরুদণ্ড কাঁপানো অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘দ্য মমি’ একটি প্রবল সুপারিশ। বর্তমানে দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোতে এই ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।








