ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা থাকাকে নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে—এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপরেই খোলা থাকবে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই স্ট্রেইটটি কেবল চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে এবং বিশেষ নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে। এই তথ্য ফার্স সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া আল জাজিরার প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তেহরানের অনমনীয় অবস্থান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ে-নিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘‘হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার মানে এই নয় যে, যে কেউ স্বাধীনভাবে এটি ব্যবহার করতে পারবে।’’ তিনি পরিষ্কার করে উল্লেখ করেছেন যে, শত্রুপক্ষের সামরিক জাহাজ বা যুদ্ধ সরঞ্জাম বহনকারী কোনো বাহন এই নৌপথ দিয়ে চলার অধিকার রাখে না। ইরানের এই কড়া অবস্থানের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখা উল্লেখ করেছেন। তালায়ে-নিক আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা সময়োপযোগী এবং ‘‘অত্যন্ত অস্থায়ী’’; বিশেষ করে লেবাননের যুদ্ধাবস্থাই এই স্ট্রেইটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। লেবাননে যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তবে ইরান যে কোনো মুহূর্তে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
হরমুজ ঘিরে টান tension-এর মাঝেই কূটনৈতিক অঙ্গনে কিছু আশার সুর দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা উচ্চস্তরের সরাসরি আলোচনা হতে পারে। প্রথম দফার বৈঠক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও উভয় পক্ষই পুনরায় আলোচনায় বসার ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে যে, উভয় প্রতিনিধিদল আগামীকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা ইরানের একটি কৌশলগত চাল—এতে তেহরান ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বজায় রেখে আসন্ন ইসলামাবাদ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায়। যেহেতু এই নৌপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই ইসলামাবাদ বৈঠকের ফলই দ্রুত প্রভাব ফেলবে বিশ্ব তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সতর্ক নজরে ইসলামাবাদ ও লেবাননের সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সামরিক টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক উদ্যোগ একসাথে চলছে—এই দুই ধারা মিলিয়ে দেখা যাবে যে, বৈরী পক্ষগুলো কি স্থায়ী কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারবে নাকি হরমুজের মতো নেয়ামত আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।







