ফরিদপুরের মধুখালীতে রাজন হত্যা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ হাজার টাকা করে
অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার প্রমাণ লোপাটের দায়ে ওই পাঁচজনকে আরও সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০
হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন
আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের
বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি আরমান হোসেন (৩৬), মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন (৩৯), মামুন শেখ
(৩৮) ও ইলিয়াছ মৃধা (৩৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামি আছাদ শেখ পলাতক রয়েছেন।
পরে আদালতের নির্দেশে চারজনকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
এদের সবার বাড়ি মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। অপরদিকে, মামলার অপর দুই আসামি
হাসান সিকদার ও আশরাফুল সিকদারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিকালে ফরিদপুরের মধুখালীর
রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহ মো. রাজন (২৮) মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে না
ফেরায় তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
চার দিন পর তার পালসার মোটরসাইকেল মধুমতি নদীর পাশে তারাপুর শ্মশানঘাট সংলগ্ন
পানিতে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ মামুন শেখের বাড়িতে গিয়ে রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এবং মোবাইল
কললিস্টের সূত্র ধরে আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরমান রাজন হত্যায়
নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রাজনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মামুনের সহায়তায় কৌশলে
কুড়ানিয়ার চর এলাকায় একটি বাগানে ডেকে নিয়ে গিয়ে আছাদ ও মামুন শেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে
৬ জন ধারালো অস্ত্র দিয়া কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাগানের মাটির নীচে চাপা দিয়া রাখে।
পরে পুলিশ মাটি খুড়ে রাজনের লাশ উত্তোলন করে।
হত্যাকাণ্ডে মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলনসহ অন্যরা লাশ ময়না তদন্তে বাঁধা দেওয়া,
বিবিধ নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও পারিপার্শ্বিকতায় হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার
প্রমাণ পায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত রাজনের মা জোৎন্সা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
পরে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে পুলিশ। দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে আজ
(বৃহস্পতিবার) মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রকিবুল ইসলাম
বিশ্বাস জানান, রাজনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার লাশ মাটি দিয়ে চাপা
দিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনে।
এঘটনায় রাজনের মা বাদী হয়ে মামলা করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানি শেষে আজ আদালতের বিচারক রাজন হত্যা মামলায়
পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে একজন পলাতক রয়েছে। অন্যরা আদালতে
হাজির ছিলেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অনাদায়ে ২০ হাজার
টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া মামলার প্রমান লোপাটের দায়ে ওই পাঁচ জনকে আরও ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং একই
সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন
আদালত।
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা
গ্রেপ্তার








