যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ৮০ বছরে পৌঁছালেও এই মাইলফলক নিয়ে খুশি নন তিনি। জন্মদিনের ঠিক তিন দিন আগে, গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রধান ডক্টর মেহমেত ওজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প সরাসরি জানান, ‘‘আপনাদের কাউকে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে হবে না। কারণ, এই জন্মদিনটি নিয়ে আমি মোটেও খুশি নই। ৮০ সংখ্যা নিয়ে আমি আগে কখনও ভাবিনি, এটি আমার পছন্দের কোনো সংখ্যা নয়।’’ কাকতালীয়ভাবে সেদিনই ওজের ৬৬তম জন্মদিন ছিল এবং তিনি ওই আলাপের একটি ভিডিও সামাজিকভাবে শেয়ার করেন।
ওই ভিডিওতে ওভাল অফিসের পিছনে সাউথ লনে রোববার হওয়ার কথা থাকা একটি ইউএফসি কেজ ম্য়াচের বিশাল অষ্টভুজাকার স্টেডিয়ামের কাঠামোও দেখা যায়। জন্মদিনের খবরটি যেন সরাসরি ওই কর্মদিবসের রুটিনের সঙ্গে মিশে এলো।
আশির কোঠায় পা দিলেও নিজের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প অনড় আত্মবিশ্বাসী। গত নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি তখনকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবাদ-উপহাস করলেও নিজে সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেন। গত মাসে এক মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমি আজ থেকে ৫০ বছর আগে যেমন অনুভব করতাম, এখনও ঠিক তেমনই আছি। কেন এমনটা হয় আমি জানি না। আমি যে খুব ভালো খাবার খাই তাও কিন্তু নয়।’’
ফাস্টফুডপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প বার্গার, সোডা ও ভারি স্টেক পছন্দ করেন; নিজের সেই খাদ্যাভ্যাস নিয়েও কৌতুক করে তিনি বলেছেন, ‘‘হয়তো জাংক ফুডই শরীরের জন্য ভালো, আর বাকি খাবারগুলো খারাপ! আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যারা রেস্তোরাঁয় গিয়ে শুধু শাকসবজি খায় এবং ওজন কমানোর চিন্তায় মগ্ন থাকে, অথচ এক দিন হুট করেই মারা যায়।’’
গত ২৬ মে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা ট্রাম্পের বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষা করে রিপোর্টে তাঁকে ‘চমৎকার স্বাস্থ্যের’ অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তি (এআই) দ্বারা বিশ্লেষিত ইসিজি রিপোর্ট উল্লেখ করে বলা হয়, ট্রাম্পের হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা তার বয়সের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর কম বয়সী কারো মতো। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘‘সবকিছু একদম পারফেক্ট এসেছে।’’
তবু সাম্প্রতিক কিছু শারীরিক চিহ্ন নজরে পড়েছে। মার্চে মেডেল অব অনার বিতরণ অনুষ্ঠানে তাঁর ডান কানের পেছনে ত্বকের বিবর্ণতা ধরা পড়েছিল; হোয়াইট হাউস জানিয়েছে সেটি কোনো ক্রিম ব্যবহারের ফলে হয়েছিল। এছাড়া বারবার করমর্দন, অ্যাসপিরিন সেবন ইত্যাদির কারণে তাঁর হাতে কালো দাগ দেখা গেছে এবং পায়ের শিরায় রক্ত চলাচলের সমস্যা কিছুটা থাকায় গোড়ালি ফুলে গিয়েছিল—এইসব বিষয়ও মিডিয়ায় উঠে এসেছে।
জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনও পুরোপুরি নীরব। সেখানে ৮০টি মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কাটা হবে কি না, তা জানা যায়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং মা মেরি অ্যান ম্যাকলিওড। কুইন্সের জ্যামাইকা এস্টেটসে বিত্তশালী পরিবারের একজন সন্তান হিসেবে ট্রাম্পের শৈশব কেটেছে; পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ।








