ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে বিতর্কের জেরে ইরানে আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, আলোচনা এবং চুক্তির শর্তগুলো ইরানের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে—বিশেষত হাজারাবাস্তা পথে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তাদের উদ্বেগের মূল।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে আরাগচির একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার থেকে, যেখানে তিনি মার্কিনদের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কথা বলেন। পরবর্তীতে মাশহাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রকের ভবনের সামনে সমর্থকবিহীন একাংশ বিক্ষোভে নামেন।

বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো চাদর পরা এক নারী ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’ শ্লোগান দিচ্ছেন এবং কালো ও লাল পতাকা উড়াচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ইরানের কূটনৈতিক দল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছাড় দিয়েছে এবং এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি—চুক্তির শর্তগুলোর কারণে ইরান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থেকে বঞ্চিত হবে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণেও ছাড় দিতে হতে পারে। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছে এবং রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অসন্তোষ জানাচ্ছে।

তবে এতে অচিরেই রাজনৈতিক পালটা আবর্জনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দাবি করেন যে চুক্তি রোববার স্বাক্ষরিত হবে এবং তা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাধামুক্ত চলাচল নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নামিয়ে তাকে চুক্তি স্বাক্ষয়ের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।

ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমঝোতা চুক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো সমঝোতা হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে হাজার হাজার মানুষের রাস্তায় নামার ছবি দেখা যায়। রাজধানী তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনেও মানুষ জড়ো হয়ে সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন, বিশেষত আব্বাস আরাগচির নাম উচ্চারণ করে সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন।

অবশেষে ইরানের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে; উল্লেখ্য, এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর বা চূড়ান্ত ঘোষণার নিশ্চয়তা মেলেনি। পরিস্থিতি কিভাবে বিকশিত হবে, তা আগামী দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও সরকারি সিদ্ধান্তে নির্ভর করবে।