ঢাকা | সোমবার | ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ: আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে কিছু মানুষ। গত শনিবার রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত মন্তব্য করার পরই মাসহাদে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে এই প্রতিবাদ দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো চাদর পরা এক নারী জোরে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’। ওই সময় তিনি কালো এবং লাল পতাকা উড়িয়ে রেখেছিলেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শর্তে চুক্তি হতে যাচ্ছে তা ইরানের স্বার্থে নয়। তারা বলেন, ওই চুক্তির ফলে ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও দেশীয় স্বার্থ হারাতে পারে এবং প্রতিনিধিদের আলোচনা চলাকালীন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ছাড় দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন চুক্তি স্বাক্ষর হবে, কিন্তু তেহরান তা নাকচ করেছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত শনিবার বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা শীঘ্রই—রোববারই—স্বাক্ষরিত হবে এবং চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত হবে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমঝোতা চুক্তির কথা স্বীকার করেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তা নিয়ে দেশের ভেতরে বিক্ষোভ প্রবল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, বিভিন্ন শহরে হাজারাহ মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের নীতির বিরোধিতা করছেন। রাজধানী তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ব্যাপক সমাবেশে তারা সরকারের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন; অনেকেই সরাসরি আব্বাস আরাগচিকে তীব্র সমালোচনায় অতিক্রম করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন।