ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য: একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। এছাড়াও সরকারের কাজের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ। এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক পর সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে প্রেস সচিব আরও জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় দফা শুরু হয়েছে এবং এ দিনের বৈঠকে গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে ট্যারিফ কমানোর জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টাকে এবং অভ্যুত্থানের ওপর কার্যক্রম সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দায়িত্ব সম্পূর্ণই নির্বাচন কমিশনের। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র প্রদান করা হয়েছে, যা দিয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। এখন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার দায়িত্ব পালন করবে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে শুধু পুলিশ নয়, আনসার, বিডিআর ও সেনাবাহিনীকেও আরও কার্যকরভাবে দায়িত্বে যুক্ত করার বিষয়ে সরকার গভীরভাবে আলোচনা ও পরিকল্পনা করছে।

তিনি বর্তমান সরকারের সময় খাদ্যের মজুদ বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি উল্লেখ করে বলেন, গত বছরের পতনের সময়ে খাদ্যের মজুদ ছিল ১৮ লাখ টন, যা এখন ২১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে সাতটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২১টি প্রস্তাবের ১৬টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৮৫টির প্রক্রিয়া চলছে। বাকী ১০টি প্রস্তাবের বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে ‘গাজীপুর ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি’ রাখা হয়েছে— এ সিদ্ধান্তও আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে, পুলিশ আগের তুলনায় আরও সক্রিয় এবং সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেটিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈদেশিক রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সরকার সফল হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার তার উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং বিদেশি উপদেষ্টারা দেশে ফেরানোর বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আলজাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রয়েছে প্রমাণ, যা বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রেস সচিব আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে; যেখানে আগের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ ফোর্স ছিল, এবার ৪০ থেকে ৫০ হাজার বেশি ফোর্স এবং সেনাবাহিনীর ৬০ হাজার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা যেতে পারে।

অবশেষে তিনি ২০২৪ সালের ৮ই আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ৩১৫ সিদ্ধান্তের মধ্যে ২৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এটি একটি রেকর্ড।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে একটি সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের আগমন সময়ে কারোই অবৈধ অভিযোগ থাকবে না, সরকার সবার জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে।