বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাসম্পন্ন সংস্থা অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস (প্রচলিতভাবে অস্কার কমিটি) সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বাছাইকৃত তালিকায় জায়গা দিয়েছে বলিউডের ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’কে (ডিডিএলজে)। তালিকাটি রোমান্টিক ট্রাভেল থিমের সিনেমাগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়; সেখানে ডিডিএলজে-কে বিশেষভাবে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদিত্য চোপড়া পরিচালিত এই সিনেমা ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ভারতের প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্রের ধারা বদলে দিয়েছে। রাজ ও সিমরান চরিত্রের মধ্যে গড়ে ওঠা প্রেমকাহিনি, ইউরোপের দৃষ্টিনন্দন ট্রেন ভ্রমণ এবং পরবর্তীতে পাঞ্জাবের সর্ষে ক্ষেতের সেই আবেগঘন দৃশ্যগুলো—সব মিলিয়ে ছবিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘রোমান্টিক ট্রাভেল’ অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। অস্কার কমিটি পর্যবেক্ষণ করেছে, ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে সাজানো সম্পর্ক-তলার গল্পগুলোর মধ্যে ডিডিএলজে একটি স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করেছে।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধান অভিনেত্রী কাজল তার ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিনেমাটির আবেদন কেবল কমেনি, বরং বৈশ্বিক মঞ্চে নতুন করে প্রশংসা ও স্বীকৃতি পাচ্ছে—এমন দিকটি কাজলের বক্তব্যে পরিলক্ষিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাকাডেমির এইরকম তালিকায় কোনো ভারতীয় সিনেমার অন্তর্ভুক্তি বলিউডের শৈল্পিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও মজবুত করে। ডিডিএলজে শুধুমাত্র ব্যবসাসফল কোনো ছবি নয়; এটি সময়ের সাথে গড়ে ওঠা আবেগ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে ও মানুষের মনে টিকে থাকে।
এই খবরে শাহরুখ খান ও কাজল উভয়ের ভক্তমণ্ডলীতে নতুন করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বহু ভক্ত সামাজিক মাধ্যম ও আলোচনা-চিন্তায় নিজেদের স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছেন—সেই ট্রেন ভ্রমণ থেকে সর্ষে ক্ষেত পর্যন্ত বহু মুহূর্ত এখনো তাদের কাছে অমলিন।অস্কারের এই স্বীকৃতি ছবিটির আন্তর্জাতিক প্রভাবকে আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরল।








