চীন বুধবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং এটিকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়েছে। বেইজিং এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক কার্যক্রম কেবলই উত্তেজনা বাড়াবে না, বরং পূর্বে স্থাপিত সূক্ষ্ম যুদ্ধবিরতি ও শান্তি ব্যবস্থাকেও ভঙ্গ করবে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, “যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।” গুয়ো একই সঙ্গে এই নীতিকে পুনরায় ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ সামরিক অবরোধ কার্যকর করে। তারপরও ওই নির্দেশনার মধ্যেই মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একটি চীনা তেলের ট্যাংকার সফলভাবে প্রণালীটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। মেরিন ট্রাফিক ও কেপলার নামক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য ভিত্তিতেই এই খবর প্রকাশ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বিপণনে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে সামরিক অবরোধ বা সীমাবদ্ধতা বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিভ্রাট এবং ব্যবসায়িক জাহাজ চলাচলে ব্যঘাত সৃষ্টি করতে পারে—এমন উদ্বেগ কূটনৈতিক মহলে দেখা যাচ্ছে। চীন তার বিবৃতিতে এসব জটিলতা আরও তীব্র হতে পারে বলে উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, মেরিন ট্রাফিক, কেপলার।








