ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আল-আকসায় হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ, সংঘাতের ছায়ায় উৎসব

পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে দখলকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদের চত্বরে বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকেই হাজারো ফিলিস্তিনি মুসল্লি জমায়েত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। চলমান যুদ্ধ ও তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বাসভিত্তিক এই সমাগমে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ঈদুল আজহার চার দিনের ছুটির প্রথম দিনেই আল-আকসা ও আশপাশের চত্বর মুসল্লিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ধর্মীয় এই উৎসবের মূল অর্থ হচ্ছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মরণ; মুসলমানরা কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ পালনের পাশাপাশি কোরবানির মাংস দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করেন।

তবে ধর্মীয় আনন্দের মধ্যেও ফিলিস্তিনে মানবিক সংকট ও সংঘাতের চিত্র বদলায়নি। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৮৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২,৬৪৫ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো রীতিমতো ধ্বংসপ্রায়, যার কারণে অধিকাংশ মানুষ গভীর অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপ ও শোকের আবহে আল-আকসার ময়দানে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতির প্রমাণ দিলেন; একদিকে তারা আল্লাহর কাছে আশা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন, অন্যদিকে ভালো থাকার অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি করলেন।

আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও স্থায়ী শান্তির আহ্বান করা হলেও সংঘাতের অবসান হয়নি। তাই এবারের পবিত্র ঈদও সাধারণ মানুষের কাছে একই সঙ্গে আনন্দ ও দুঃখ বহন করে গেল।