সিলেটের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে দীর্ঘ প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা শুরু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটায় মাজার প্রাঙ্গণে রাখা সিল করা ডেকচিগুলোর ঢাকনা খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণনা কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কাজটি তদারকি করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাজার এলাকা জুড়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া উপস্থিতি ছিল। গণনা দেখতে কেন্দ্রে ভিড় করেন উত্সুক জনতা ও ভক্তরা, যা মাজার প্রাঙ্গণ এক সময় বলিভূত করে তোলে।
স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের এ স্বচ্ছতামূলক পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন। গণনা শুরু হওয়ার সংবাদ ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশের মানুষ আফসোস প্রকাশ করে সারওয়ার আলমকে সিলেট জেলা প্রশাসকের পদে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, দুপুরের নামাজের পরে জেলা প্রশাসক মাজারের জামেয়া ও এতিমখানা অফিসে অবস্থান নেন এবং তার উপস্থিতিতেই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গণনা শেষে সংগৃহীত দানের মোট পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। পরবর্তীতে সেই অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়দের ধারণা, এই ধরনের স্বচ্ছতা মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি জবাবদিহিতা এবং আস্থা এনে দেবে।
ঘটনাটি সিলেটের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে অনেকেই মনে করছেন, কারণ এটি মাজার সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনে স্বচ্ছতার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।








