ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

উপদেষ্টা থাকাকালীন ইসি লক করেছিল নাহিদ ইসলামের এনআইডি, তদন্তে বেরিয়ে মিথ্যা প্রমাণিত

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা মো. নাহিদ ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) লক করেছিল। এনআইডি তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে নাহিদের এনআইডি আনলক করা হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ জানায়, ‘ভণ্ডবাবা’ নামে একটি গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে মো. নাহিদ ইসলাম নামের একজন ব্যক্তির এনআইডিও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগকে তথ্য দেওয়া হয়। সূত্রের ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্তে দেখা যায়, ‘ভণ্ডবাবা’ গ্রুপটি আসলে হোয়াটসঅ্যাপে নয়, এটি টেলিগ্রামের একটি গ্রুপ এবং নাহিদ ইসলামের সঙ্গে এর কোনো যোগযোগ নেই।

তদন্তে নাহিদের এনআইডির বিরুদ্ধে কোনো তথ্য ফাঁসের প্রমাণ মিলেনি। অভিযোগের মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ইসি তাকে তার এনআইডি ফিরিয়ে দেয়।

একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, মো. নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য সরবরাহের যুক্তি পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগটি মিথ্যা। তাই এনআইডি আনলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের আলোকে ইসি ২২ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত নেয় এনআইডি মুক্তি দেওয়ার।

সাবেক উপদেষ্টা নাহিদের এনআইডি ওই পাঁচদিন লক ছিল। বর্তমানে এনআইডি মহাপরিচালক এসএম হুমাযুন কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না, তাই এর সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা বা মন্তব্য নেই।

এই ঘটনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ভুল অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া পদক্ষেপও দ্রুত নিরীক্ষণ এবং তদন্তের পর পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে, যা নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে।