ঢাকা | সোমবার | ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এনআইডি নবায়ন ছবিসহ বাধ্যতামূলক করার ভাবনা ইসির

নতুন ছবি ও বায়োমেট্রিকসহ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন বাধ্যতামূলক করার ওপর ভাবনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন বলছে, এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর হওয়ায় ওই সময়ের মধ্যে মানুষের চেহারা ও বায়োমেট্রিকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে; তাই নবায়ন বাধ্যতামূলক করলে পরিচয় যাচাই সহজ ও নিরাপদ হবে।

আইনী ভিত্তি ও নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০ এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী এনআইডির মেয়াদ প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। আইনের অন্য ধারায় বলা আছে যে, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে বা পরে নাগরিককে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে কমিশনের কাছে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। যদিও বিধিমালায় নবায়নের প্রক্রিয়া ও শর্ত আছে, তা এখনও বাধ্যতামূলক করা হয়নি; এখন সেটি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রক্রিয়া সংক্ষেপে

বিধিমালায় বলা আছে, নবায়নের জন্য নাগরিক বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ ব্যবহার করে সরাসরি স্থানীয় কার্যালয়ে বা কমিশনের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি আবেদন হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে ফি পরিশোধের রশিদের কপি সংযুক্ত করে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসেবে দাখিল করতে হবে; অনলাইনে আবেদন করলে রশিদের স্ক্যানকৃত কপি ইলেকট্রনিকভাবে দাখিল করতে হবে।

অফিসে আবেদন পেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন ফরমের অংশ ‘ক’ স্বাক্ষর করে আবেদনকারীকে ফেরত দেবেন বা অনলাইনে হলে মোবাইল/ইমেইলে পাঠাবেন। আবেদনপত্রে ত্রুটি থাকলে সেই ত্রুটি অংশ ‘ক’-এ উল্লেখ করে আবেদনপত্র ফেরত দেওয়া হবে; আবেদনকারী সংশোধন করে পুনরায় দাখিল করবেন। কর্মকর্তা সন্তুষ্ট হলে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক দেয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করে অংশ ‘ক’ দেবেন।

নবায়নে নেয়া বায়োমেট্রিক ফিচারের মধ্যে রয়েছে আঙুলের ছাপ, হাতের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের আইরিশ, মুখাবয়ব, ডিএনএ, স্বাক্ষর ও কণ্ঠস্বর—তবে বর্তমানে বাস্তবে কেবল আঙুলের ছাপ ও আইরিশ নেয়া হচ্ছে। আবেদনকারীকে নির্ধারিত তারিখে কমিশন বা স্থানীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিকসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। বায়োমেট্রিক গ্রহণসহ সব কার্যক্রম শেষ হলে কর্মকর্তা আবেদন ফরমের অংশ ‘খ’ স্বাক্ষর করে দেবেন এবং ওই অংশে উল্লেখিত তারিখে পুরাতন এনআইডি ফেরত গ্রহণ সাপেক্ষে একই নম্বরে নতুন এনআইডি জারি করা হবে (ফরম-২ বা ফরম-৪ অনুযায়ী)।

সময় ও ফি

বিধিমালায় বলা আছে, জরুরি আবেদনের জন্য ৭ দিন এবং সাধারণ আবেদনের জন্য ৩০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি জরুরি হলে ১৫০ টাকা, সাধারণ হলে ১০০ টাকা।

চিন্তা–ভাবনা ও সমস্যা

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে, ১৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে নবায়ন কার্যক্রম চলছে এবং কেউ চাইলে এখনই নবায়ন করতে পারবেন—বিশেষ করে কার্ড হারালে বা নষ্ট হলে। তবে আবেগ বা চেহারা বদলের কারণে কেউ জালিয়াতি করলে তারোধ করা প্রয়োজন—এজন্য নবায়ন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ভাবছে।

বর্তমানে এনআইডি হারানো বা নষ্ট হলে নতুন কার্ড নেয়ার জন্য যে ফি নির্ধারিত আছে, সেটিও তুলনামূলকভাবে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, প্রথমবার হারানো/নষ্ট হলে সাধারণ পুনরায়-জারি ২০০ টাকা ও জরুরি ৩০০ টাকা; দ্বিতীয়বার সাধারণ ৩০০ টাকা ও জরুরি ৫০০ টাকা; পরবর্তী ক্ষেত্রে সাধারণ ৫০০ টাকা ও জরুরি ১০০০ টাকা ফি ধার্য রয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদ্ধতিতে তথ্য নবীকরণ হয় না এবং খরচও বেশি হয়। অন্যদিকে নিয়মিত নবায়ন করলে ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ ইত্যাদি আধুনিকভাবে আপডেট করা যাবে, ফলে পরিচয় যাচাই সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

ফি কেটে দেওয়া বা মুক্ত রাখা যায় কি না, তাও ইসি যাচাই করছে; বিভাগীয়ভাবে এই প্রস্তাব জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। এনআইডি মহাপরিচালক এএইচএম আনোয়ার পাশা জানিয়েছেন যে বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে আছে এবং সিদ্ধান্ত নিলে তা জানানো হবে।