ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এনবিআরের কর্মী-চাকরি অত্যাবশ্যকীয় সেবা, কর্মস্থলে না গেলে কঠোর ব্যবস্থা: যুক্তি প্রকাশ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে বলা হয়েছে, কারণ এনবিআরের কাজ দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে বিবেচিত। অন্তর্বর্তী সরকার রবিবার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর্মস্থলে না ফেরা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার তুলনায় দেশে রাজস্ব আহরণ কম থাকায় অর্থনৈতিক নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এই অবস্থায়, সরকার সব অংশগ্রহণকারীর পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, গত দুই মাস ধরে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা এবং সংস্কার বিরোধিতার নামে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের এই আচরণ ‘‘অনৈতিক ও অন্যায্য’’ এবং দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

তারা না শুধু সংস্কারের বিরোধিতা করছে, বরং বছরের শেষ দুই মাস রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে শিথিল করে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিপন্থী কাজ করছে। এই পরিকল্পিত আন্দোলন জাতীয় স্বার্থের বিরোধী এবং নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, তারা বারবার কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু তা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলনের নামে চলমান অনমনীয় অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতি করছে এবং এই অবস্থায় দেশের জরুরি আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য রক্ষার্থে সরকার এনবিআরের আওতাধীন সব কাস্টমস হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট এবং শুল্ক স্টেশনের সরবরাহকারী সকল শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুতই কর্মস্থলে ফিরে এসে আইনভঙ্গ ও জাতীয় স্বার্থের বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন। অন্যথায়, দেশের জনগণ ও অর্থনীতির সুরক্ষায় সরকার বাধ্য হয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।