ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সরকারি ভাতা প্রাপ্তিতে অনিয়মের কঠোর নজরদারি: স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত নয়

দেশের সব ধরনের সরকারি ভাতা যেন কেবল যোগ্য ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি সোমবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশনের শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্যপ্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভাতা প্রাপ্তিতে কোনো ধরণের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। এ জন্য তার সরকার একটি নতুন ও স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করছে, যেখানে শুধুমাত্র যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই অন্তর্ভুক্ত হবেন। এই নতুন তালিকা তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা যারা প্রদান করে থাকেন, তাদের জন্য এই তালিকা প্রস্তুতি জরুরি, যাতে ভাতা গ্রহণের আওতায় থাকা অযোগ্য ব্যক্তি đôi সব ধরনের বিভ্রান্তি দূর করা যায়। তিনি বললেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত ভাতা প্রদান করা হয়, তা শুধুমাত্র যোগ্য ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিয়েই হবে। এই জন্য আমরা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কমিটিও গঠন করে দিয়েছি। বিশেষ করে, ‘জি-টু-পি’ (Government to Person) ভিত্তিতে সবার জন্য উপযোগী ও প্রয়োজনীয় ভাতা পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে কাজ চলছে, যেখানে সত্যিকার যোগ্যতা অনুযায়ী তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের এই সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো, সুবিধাভোগী যারা সত্যিকারভাবে এর প্রাপ্য, তারা যেন সুবিধা পায়, এর জন্য ডিসিদের সার্বিক তদারকি ও তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারি ভাতা যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে সঠিক মানুষদের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে আমাদের মনোযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আমাদের সক্রিয় সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, সরকার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন জেলা প্রশাসকরা। তিনি বলেন, “সরকারি কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন এই সেবাগুলো সঠিকভাবে ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছায়। ডিসিরা যেন প্রতিটি পর্যায়ে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন, সেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে দুর্নীতি রোধ হবে, এবং সব সুবিধাভোগী সত্যিকার অর্থে উপকৃত হবেন।” তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে সবাইকে অনুরোধ জানান, কঠোরভাবে দায়িত্বশীল থাকতে।