ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স নিয়ে রিভিউ রায়ের ঘোষণা আজ

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদাক্রম নির্ধারণকারী ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বিষয়ে রিভিউ রায় আজ ঘোষণা করা হবে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ ৩০ জুলাই রিভিউ শুনানি শেষ করেন এবং রায়ের জন্য ৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন। তবে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট রায়ের জন্য ৭ আগস্ট দিন ধার্য করার নির্দেশ দেন।

রিভিউ আবেদনের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন দোলন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদন পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এম. আবদুল কাইয়ূম শুনানি করেন। এছাড়া ইন্টারভেনর হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) শুনানিতে অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৯৮৬ সালে ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি করে যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এটি সংশোধন করা হলেও, সংবিধান মোতাবেক সাংবিধানিক পদ এবং সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত পদসমূহের সাথে প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মীদের স্থান নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এই কারণে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. আতাউর রহমান হাইকোর্টে রিট করেন।

২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ১৯৮৬ সালের সংশোধিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন এবং আট দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কিছু সংশোধনের মাধ্যমে তিন দফা নির্দেশনা দেয়। সেগুলো হলো- সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হওয়ায় সাংবিধানিক পদধারীরা প্রাধান্য পাবেন; জেলা জজ ও সমপদমর্যাদাসম্পন্নরা সরকারের সচিবদের সঙ্গে ১৬ নম্বরে অবস্থান করবেন; এবং জেলা জজদের পরেই অতিরিক্ত সচিবরা ১৭ নম্বরে থাকবেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন রিভিউ আবেদন করেন, যাতে পরে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরাও যুক্ত হন। আজ সেই রিভিউ রায়ের ঘোষণা আসছে, যা দেশের প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাক্রম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।