ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কমনওয়েলথ অ্যালামনাই প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং উপক্রমণিকা

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য “কমনওয়েলথ অ্যালামনাই প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিং সন্ধ্যা” অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন (সিএসসি) ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে আসা কমনওয়েলথ অ্যালামনাই একত্রিত হয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গভীর মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির গুরুত্ব ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তায় জোর দেন। এগিয়ে আসা স্কলাররা তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সহযোগিতা কামনা জানান। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাজ্যের এই বৃত্তির কারণে তারা পরিবর্তনসৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে উঠেছেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি জানানো হয়, যেন যুক্তরাজ্যে শিক্ষাগ্রহণ করা এসব পরিবর্তনসৃষ্টিকারীরা দেশে ফিরে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বলেন, “শুধু এই বছরেই আমরা গত মাসে প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং-এ নতুন ২৭ জন কমনওয়েলথ স্কলারকে স্বাগত জানিয়েছি। তাদের এনার্জি, প্রতিভা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমাদের কাজের উদ্দেশ্যকে আরও প্রबल করেছে। আজ এত সংখ্যক অ্যালামনাইকে একত্রে দেখে আমরা নিশ্চিত যে, এই বৃত্তিগুলো শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, সমাজেও গভীর ও স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন, যারা কৌতূহল, সম্মান ও সহযোগিতার মূল্যবোধ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি, এই সুযোগকে সর্বোচ্চ রূপে ব্যবহার করে খুলে দেবেন নতুন যোগাযোগ, খোলামেলা মতবিনিময় এবং একসঙ্গে কাজ করার পথ।”

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, স্বাধীন অভিবাসন গবেষক ইশরার হাবিব, স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ড. অভিষেক কুমার ঘোষ, স্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, জেন্ডার ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইশরাত জাহান খান (বর্ষা), মানসিক স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য গবেষক ড. এম. তাসদিক হাসান, ব্র্যাকার জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী নাজিয়া ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. শফিক-উর-রহমানসহ আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন। এই সন্ধ্যার মাধ্যমে কমনওয়েলথ স্কলারগণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও জ্ঞানের আদান-প্রদান করে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।