ঢাকা | রবিবার | ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

কাদুগলির শহীদ ছয় বাংলাদেশিকে নিউইয়র্কে ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ মরণোত্তর পদক

সুদানের কাদুগলি এলাকার জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী (UNISFA) কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। এই সংবর্ধনা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক তুলে দেন। পদকগুলো নিহতদের পক্ষে গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

সম্মাননা প্রাপ্ত শান্তিরক্ষীদের নাম হলো কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা ও প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব পালনের সময় এক আকস্মিক ড্রোন হামলায় শহীদ হন।

অনুষ্ঠানে মহাসচিব গুতেরেস ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারানো প্রায় চার হাজার পাঁচশো শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে বসতরত পাঁচ হাজারও বেশি নয়—পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি—শান্তিরক্ষীর অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন এবং তাদের সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রশংসা করেন।

এই বছর মোট ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মরণোত্তর পদকে ভূষিত করা হয়েছে। ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকটি ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগে চালু করা একটি সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মাননা, যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণনিবেদনকারী সদস্যদের অসামান্য অবদান ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

পুরস্কার প্রদানার্থক অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী শোকবইতে স্বাক্ষর করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষই তাদের সাহসিকতা স্মরণ রেখে নিরন্তর শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।