গত বছরের সফল ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি–মার্চ) বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্টফোনের শীর্ষে আছে অ্যাপলের আইফোন ১৭। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইফোন ১৭ প্রথম প্রান্তিকে মোট বিক্রির প্রায় ৬ শতাংশ দখল করেছে এবং এই ফলাফলের সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ ফোনের খেতাবটি ফিরে পেয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিক্রির তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং আইফোন ১৭ প্রো। গত বছরের শেষভাগে প্রো ম্যাক্স মডেলটি শীর্ষে ছিল, তবে বর্তমানে সাধারণ বেস আইফোন ১৭-এর চাহিদা বেড়ে সেটি এগিয়ে গেছে। একই রিপোর্টে উল্লেখ আছে, গ্লোবালভাবে শীর্ষ ১০টি স্মার্টফোন এখন মোট বাজারের প্রায় ২৫ শতাংশ দখল করছে—প্রথম প্রান্তিকের হিস্টরিতে এটি একটি নতুন রেকর্ড।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, আইফোন ১৭-এর বেস মডেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড দেওয়া হলো, যার ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মেমোরি সক্ষমতার বৃদ্ধি, ক্যামেরার রেজল্যুশনে উন্নতি এবং ডিসপ্লের উচ্চ রিফ্রেশ রেট ব্যবহারকারীদের প্রো মডেলের মতো অভিজ্ঞতা দিচ্ছে—এগুলোই বিক্রিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
ভৌগোলিকভাবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায়ও আইফোন ১৭-এর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; এক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে সেখানে বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
অ্যাপলের পাশাপাশি তালিকার শীর্ষ ১০-এ জায়গা করেছে স্যামসাংয়ের পাঁচটি মডেল। তালিকাভুক্ত সিরিজগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্যালাক্সি A07, A17, A56 ও A36 — যা মধ্যবিত্ত ও বাজেটধর্মী ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের দামি ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি S26 আল্ট্রা সামান্য ব্যবধানে তালিকায় জায়গা না পেলেও এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষমতা ও উন্নত নিরাপত্তা ফিচারের কারণে বিক্রি সন্তোষজনক ছিল।
বাজেট শ্রেণির ফোন হিসেবে শাওমির রেডমি A5 তালিকার দশম স্থানে থেকে পাঠক-গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে। সামগ্রিকভাবে এই ফলাফলগুলো নির্দেশ করছে—বাজারে প্রিমিয়াম ও মধ্যশ্রেণি দুই ধারাতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র এবং ব্যবহারকারীরা এখন মূল্য ও কার্যকারিতা—দু’য়ের সমন্বয় খুঁজছেন।









