চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় অক্সিজেনগামী সড়ক অতিবৃষ্টির প্রলম্বিত পানির ঢেউয়ে ধসে পড়েছে। এই কারণে সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা শহরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সড়কে চলাচলের গতি স্তব্ধ হয়ে পড়ে, ফলে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে নগরবাসী অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বায়েজিদ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামশুল আলম বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার রাতের কোন এক সময়ে স্টারশিপ ব্রিজ এলাকায় সড়ক ধসে যাওয়ার কারণে ওই সড়ক দিয়ে অক্সিজেনগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ সেখানে অবস্থান রেখে নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে ধস নেমেছে এবং ধসে যাওয়া অংশে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া ও লাল ফিতা বাঁধা হয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে সড়কের এক পাশে যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল, বহুবার ভাঙনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। আজ সেই আশঙ্কা সত্যি হয়ে দাঁড়াল। তিনি বলেন, সমস্যাটি সপ্তাহান্তে না ঘটলে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হত না।
পিবিও আমবাগান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজন রায় জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। চট্টগ্রামে বুধবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী ও কর্মস্থলগামী মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলপান কমতে শুরু করেছে, তবে এর ফলে গণপরিবহনে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসী আশা করছে দ্রুত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, যাতে দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।







